লিড নিউজ ২৪ ডেস্ক:
যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (RAF) ‘ফেয়ারফোর্ড’ বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী হামলার ছক কষার অভিযোগে এক ইরানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিককে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার-টেরোরিজম পুলিশ। বৃহস্পতিবার লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের মদদ রয়েছে কিনা—তা নিয়ে জোরালো তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে এই ঘটনায় সন্দেহের তীর এখন সরাসরি ইরানের দিকেই।
চলছে তল্লাশি ও কঠোর তদন্ত
লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে সন্দেহভাজন ওই যুবকের দুটি ঠিকানায় ইতোমধ্যে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। ২০০৬ সালের সন্ত্রাসবাদ আইনের ৫ ধারায় ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির’ সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের কাউন্টার-টেরোরিজম পুলিশের সিনিয়র ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর ভিকি ইভান্স এই গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছি। এর মধ্যে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের (স্টেট অ্যাক্টর) সম্পৃক্ততা থাকার সম্ভাবনাও আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। গ্লুচেস্টারশায়ারের এই ঘটনাটি অত্যন্ত জটিল এবং আমাদের বিশেষজ্ঞ দল একাধিক সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে।”
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
এর আগে, গত রবিবার ভোরে গ্লুচেস্টারশায়ারের ওয়েলফোর্ড গ্রামে ওই বিমানঘাঁটির বাইরে সন্দেহজনক ভ্যানসহ পাঁচ তরুণকে (যাদের বয়স ২০-এর কোঠায়) গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। রাত ১টার দিকে এক কৃষক পার্টি থেকে ফেরার পথে ভ্যানগুলোকে দেখে জরুরি সেবায় (৯৯৯) খবর দেন। মজার ব্যাপার হলো, ভ্যানগুলোতে একটি বৈধ জ্বালানি পরিবহন কোম্পানির লোগো লাগানো ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে ওই কোম্পানিটি জানায় ভ্যানগুলো তাদের নয়!
প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে ওই পাঁচজনকে ধরা হলেও ভ্যান বা তাদের ঠিকানায় কোনো সক্রিয় বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। পরে তাদের পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে জামিনে মুক্তির এই সিদ্ধান্তে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ শীর্ষ রাজনীতিবিদরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
সন্দেহের কেন্দ্রে ইরান!
তদন্তকারীদের প্রবল ধারণা, এই ঘটনার নেপথ্যে ইরানের ইন্ধন থাকতে পারে। বিষয়টি এতটা গুরুত্ব পাচ্ছে যে, গত সোমবার ব্রিটিশ সরকারের ক্রাইসিস কমিটি ‘কোবরা’ (Cobra)-এর একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সেখানে শীর্ষ পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মূলত গত জুলাই মাসে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস যুক্তরাজ্যের এই বিমানঘাঁটিকে তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এরপর থেকেই আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ব্রিটিশ মন্ত্রীদেরও গোয়েন্দারা ব্রিফ করেছেন যে, ইরান মাঝে মাঝেই পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পদ নষ্ট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য প্রক্সি বা ভাড়াটে লোক ব্যবহার করে থাকে। তবে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে এই ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগকে “পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ” বলে কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে।
আতঙ্কে গ্রামছাড়া ৮৫ পরিবার
এদিকে, গত রবিবার ওই এলাকায় বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ মোতায়েন করা হলে ওয়েলফোর্ড গ্রামের ৮৫টি পরিবারকে নিরাপত্তার স্বার্থে তড়িঘড়ি করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে অনেককে স্থানীয় একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্র ও হোটেলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হলেও গোটা যুক্তরাজ্য জুড়েই এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবককে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যেখান থেকে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন গোয়েন্দারা।
মন্তব্য করুন