ফ্রান্স ঋণের ‘দুষ্টচক্রে’ আটকে পড়েছে— এমন ধারণা সরাসরি নাকচ করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী রোলান্ড লেস্কুর। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের সরকারি বাজেট পাস করতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর মধ্যপন্থী সরকার চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাজেট পাস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে সরকার আর্থিক বাজারকে আশ্বস্ত করতে চায় যে ফ্রান্স ক্রমবর্ধমান ঋণের বিশাল বোঝা কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে।
মঙ্গলবার ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে লেস্কুর বলেন, সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে দেশটি এখনো ঋণের এমন এক দুষ্টচক্রে পড়েনি, যেখানে ঋণের বোঝা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়তে থাকে। ২০২৭ সালের বাজেট নিয়ে বিতর্ক শুরু করে তিনি স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সরকারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে ২০২৭ সালে এ হার গড়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ লক্ষ্য অর্জনে ৪৩ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় কমানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব করেছে সরকার। লেস্কুর ২০২৭ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশে সরকারি বাজেট ঘাটতি নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে বাজেট পাসের আহ্বান জানান। স্কুলের শিক্ষা পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে এই বাজেট বিতর্ক শুরু হয়েছে। আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বাম ও ডানপন্থী বিরোধী দলগুলো সরকারের বাজেট প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে।
আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে এবং এই নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি দলের প্রার্থী মেরিন লে পেনের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বছরের বাজেট পাসে সহায়তা করা সোশ্যালিস্ট পার্টিসহ বিরোধী দলগুলো সরকারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমানো ও পেনশন বৃদ্ধির ওপর সীমা আরোপ। সোশ্যালিস্টরা বাজেটের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের পরিকল্পনা করেছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ দলগুলোর সমর্থন না থাকায় তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।
মন্তব্য করুন