সায়মন খান | লিড নিউজ ২৪
আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে সেদিকুল্লাহ আতালের অসাধারণ ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে টাইগারদের। আফগান এই ওপেনারের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান। যদিও দিনের দ্বিতীয় সেশনে মেহেদী হাসান মিরাজের জোড়া আঘাতে আবারও জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টের পঞ্চম দিনে ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেন আফগান ব্যাটসম্যানরা। তবে দিনের প্রথম দুই সেশনে তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০৮ ওভার শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৬৫ রান। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ২১৪ রান। অন্যদিকে, বাংলাদেশের দরকার বাকি চার উইকেট।
ম্যাচের চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান করা আফগানিস্তান পঞ্চম দিনে মূলত ম্যাচ বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে। সেদিকুল্লাহ আতাল ও হাশমতউল্লাহ শাহিদির প্রতিরোধে শুরু থেকেই উইকেট পেতে বেগ পেতে হয় বাংলাদেশের বোলারদের।
এর মধ্যে ফিল্ডারের ছোড়া বল পায়ে লেগে আহত হন শাহিদি। সাময়িকভাবে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে তার পরিবর্তে ব্যাটিংয়ে নামেন ইকরাম আলিখিল। নতুন ব্যাটসম্যানকে সঙ্গে নিয়েও প্রতিরোধ অব্যাহত রাখেন আতাল।
চতুর্থ উইকেটে আতাল ও ইকরামের ৬৬ রানের জুটি ভাঙেন পেসার ইবাদত হোসেন। তার শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ইকরাম। ৬৯ বলে ৩৩ রান করে বিদায় নেন তিনি।
এরপরও এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং চালিয়ে যান আতাল। বাংলাদেশের পেস ও স্পিন আক্রমণ সামলে ২৭৭ বলে পূর্ণ করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। আটটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি আফগানিস্তানের টেস্ট ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে দেশটির কোনো ব্যাটসম্যানের এটিই প্রথম সেঞ্চুরি।
বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ এসেছিল আতালের ব্যক্তিগত ৭০ রানের সময়। তাইজুল ইসলামের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে শট খেলতে ব্যর্থ হন আফগান ওপেনার। কিন্তু বল গ্লাভসে নিতে না পারায় স্টাম্পিংয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেন লিটন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই তিন অঙ্কের ইনিংস উপহার দেন আতাল।
দীর্ঘ সময় উইকেটের খোঁজে থাকা বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার অফ স্পিনে ইসমাত আলমের ব্যাটের কানায় লেগে বল লিটনের গায়ে স্পর্শ করে ওপরে উঠে যায়। পরে ক্যাচ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ৬০ বলে মাত্র ৪ রান করা ইসমাতের বিদায়ে ভাঙে ১২৩ বল স্থায়ী ৪০ রানের জুটি।
এরপর চোট কাটিয়ে আবারও ব্যাটিংয়ে নামেন হাশমতউল্লাহ শাহিদি। তবে দ্বিতীয়বার ক্রিজে ফিরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। মিরাজের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৬৯ বলে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৬ রান করেন শাহিদি।
তার বিদায়ে আফগানিস্তানের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। ফলে শেষ সেশনের আগে আবারও ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা জোরালো হয়।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২৪০ রানে। এতে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পায় টাইগাররা।
দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং মেহেদী হাসান মিরাজের অর্ধশতকে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ১১৭ বলে ১৪টি চারে ১০২ রান করেন লিটন। অন্যদিকে ৯৭ বলে অপরাজিত ৫২ রান করেন মিরাজ। সপ্তম উইকেটে দুজনের ১৪৯ রানের জুটিই বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্যের ভিত গড়ে দেয়।
ব্যাট হাতে সেঞ্চুরির পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন লিটন। দুই ইনিংসে ৫৩ ও ১০২ রান করার পাশাপাশি ম্যাচে নয়টি ডিসমিসালে অবদান রেখে টেস্ট ক্রিকেটে বিরল কীর্তি গড়েছেন বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ইবাদত হোসেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট নিয়ে আফগানদের প্রতিরোধ ভাঙতে বড় অবদান রেখেছেন এই পেসার। প্রথম ইনিংসে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট নিয়ে আলোচনায় ছিলেন হাসান মাহমুদও।
সব মিলিয়ে একমাত্র টেস্টের শেষ দিনে লড়াই এখন দুই দলের ভিন্ন দুই লক্ষ্যের। বাংলাদেশের লক্ষ্য দ্রুত শেষ চার উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করা। অন্যদিকে সেদিকুল্লাহ আতালের অসাধারণ ইনিংসকে পুঁজি করে ম্যাচ ড্র করার আশা বাঁচিয়ে রাখতে মরিয়া আফগানিস্তান।
আবুধাবির শেষ বিকেল তাই নির্ধারণ করবে, বড় রানের লক্ষ্য দিয়ে বাংলাদেশ জয় তুলে নিতে পারবে, নাকি আতালের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি আফগানিস্তানকে রক্ষা করবে।
মন্তব্য করুন