সায়মন খান | লিড নিউজ ২৪
আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে প্রতিপক্ষকে ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য দেওয়ার পর বল হাতেও দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩২ রান। জয়ের জন্য শেষ দিনে তাদের প্রয়োজন আরও ৩৪৭ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশের দরকার মাত্র ৭ উইকেট।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে আফগানিস্তান ২৪০ রানে অলআউট হলে ১০৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় টাইগাররা। সেই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের মূল নায়ক লিটন দাস। তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও চতুর্থ দিনে মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। সপ্তম উইকেটে দুজনের ১৪৯ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় বাংলাদেশ।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ১১৭ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে ১০২ রান করেন লিটন। এটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। অন্যদিকে ৯৭ বলে ৫টি চার মেরে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন মিরাজ। লিটন আউট হওয়ার পরপরই ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।
পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে আফগানিস্তান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে এবাদত হোসেনের বলে উইকেটরক্ষক লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার আবদুল মালিক। মাত্র ২ রান করেন তিনি।
এরপর আক্রমণে এসে আফগানিস্তানকে দ্বিতীয় ধাক্কা দেন হাসান মাহমুদ। তাঁর বলে পুল শট খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন শহিদুল্লাহ কামাল। ১৯ রান করে ফেরেন এই ব্যাটার। মাত্র ২৮ রানে দুই উইকেট হারিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে আফগানরা।
তবে তৃতীয় উইকেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন রহমত শাহ ও সেদিকুল্লাহ আতাল। বাংলাদেশের বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে ৮২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তাঁরা। সতর্ক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সুযোগ বুঝে বাউন্ডারি আদায় করে ম্যাচে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যান দুই আফগান ব্যাটার।
এই জুটি ভাঙার সুযোগ পেয়েও ক্যাচ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। জীবন পাওয়া রহমত শাহ শেষ পর্যন্ত অর্ধশতক তুলে নেন। তবে দিনের শেষ দিকে আবারও আঘাত হানেন এবাদত। তাঁর বলে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১২৪ বলে ৫১ রান করে সাজঘরে ফেরেন আফগান অধিনায়ক।
রহমতের বিদায়ে স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশ শিবিরে। এরপর সেদিকুল্লাহ আতাল ও হাশমতউল্লাহ শহিদি আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি। দিনের খেলা শেষে আতাল ১২৬ বলে ৩৫ এবং শহিদি ২৭ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে এবাদত হোসেন ৩২ রান দিয়ে দুটি এবং হাসান মাহমুদ ৩১ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন।
এদিন ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও নতুন রেকর্ড গড়েছেন লিটন। দুই ইনিংস মিলিয়ে আটটি ডিসমিসাল করে এক টেস্টে বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক হিসেবে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের কীর্তি গড়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ম্যাচের তৃতীয় দিনে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক করেছিলেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে এই কীর্তি গড়েন তিনি। সেই সঙ্গে পাঁচ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানকে অল্প রানে গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই পেসার।
সব মিলিয়ে আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনটি এখন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ টাইগারদের হাতে থাকলেও আফগানিস্তানের ব্যাটাররা ইতোমধ্যে প্রতিরোধের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে জয় নিশ্চিত করতে হলে শেষ দিনেও ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলে নিতে হবে বাংলাদেশের বোলারদের।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলায় আফগানিস্তানের বাকি সাত উইকেট তুলে নিয়ে আরেকটি টেস্ট জয়ের আনন্দে মাততে চাইবে বাংলাদেশ।
মন্তব্য করুন