সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় শ্রীশ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরে চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টানা ১৭ ঘণ্টার অভিযানে চোর শনাক্ত থেকে মালামাল উদ্ধারের পুরো ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সিসিটিভি ফুটেজ।
মন্দিরে চুরির ঘটনার পর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জার্সি পরা ফাহিম নামে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর ফাহিম চুরির সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা অন্য ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য দেয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আবারও অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে বড় বাজার এলাকার জারু ওরফে খাটোজন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে পৌঁছায় পুলিশ। সেখানে বাড়ির ভেতরে তালাবদ্ধ অবস্থায় তাকে পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের অভিযান টের পেয়ে জারুকে রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল তার পরিবারের সদস্যরা। তবে পুলিশের তৎপরতায় সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরে জারুকে আটক এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের কথা জানা যায়।
এ ঘটনায় হাসিব নামে আরেক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যিনি আখাউড়ার মালদার পাড়া এলাকায় থাকেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া তাজুল নামে আরও একজনের পলাতক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও মামলার নথি থেকে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে আখাউড়ার শ্রীশ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরের পেছনের দিকের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার, ছয়টি মূর্তি এবং দানবাক্সের টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
চুরির ঘটনায় টানা ১৭ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে মালামাল উদ্ধার ও দুইজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আখাউড়া থানা পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।
মন্দিরের চুরির ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত, পলাতক ব্যক্তিকে আটক এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
মন্তব্য করুন