সায়মন খান | লিড নিউজ ২৪
ক্রিকেট মাঠে মুহূর্তের অসতর্কতায় কতটা বড় বিপদ ঘটতে পারে, তারই এক অবাক করা উদাহরণ দেখা গেল ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। বল বাউন্ডারি পেরিয়ে গেছে ভেবে নিশ্চিন্তে ক্রিজে ফিরছিলেন ভারতের তরুণ ব্যাটার তিলক ভার্মা। কিন্তু তাঁর সেই ভুল ধারণাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায়। কোনো তাড়াহুড়া ছাড়াই হেঁটে ফেরার সময় অপ্রত্যাশিতভাবে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় এই বাঁহাতি ব্যাটারকে।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে হলকার স্টেডিয়ামে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের ব্যাটিং ইনিংসের ১৭তম ওভারে ঘটে আলোচিত এই ঘটনা।
ওই ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার গুড়াকেশ মোতির একটি ফুলটস বল লেগ সাইডে জোরে মারেন অক্ষর প্যাটেল। বলটি দ্রুত বাউন্ডারির দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে তিলক ও অক্ষর একটি রান সম্পন্ন করেন। এরপর দুজনই ধরে নেন, বলটি বাউন্ডারি অতিক্রম করেছে। এমন ধারণা থেকে মাঝপিচে দাঁড়িয়ে একে অপরের সঙ্গে কথাও বলেন তাঁরা। এমনকি হাতও মেলান দুই ভারতীয় ব্যাটার।
কিন্তু তাঁদের ধারণা যে ভুল, সেটি তখনো বুঝতে পারেননি কেউই। বাউন্ডারি লাইনের কাছে দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে বলটি আটকে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কামিল পুরান। ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি মাঠের ভেতরে রাখতে সক্ষম হন তিনি। এরপর দ্রুত বল তুলে পাঠিয়ে দেন উইকেটরক্ষক শাই হোপের কাছে।
বল বাউন্ডারি অতিক্রম করেনি বুঝতে পেরে দ্রুত নিজের ক্রিজে ফিরে যান অক্ষর প্যাটেল। কিন্তু তিলক তখনো পরিস্থিতি বুঝে উঠতে পারেননি। তিনি অনেকটা নিশ্চিন্ত ভঙ্গিতেই হেঁটে নিজের প্রান্তে ফিরছিলেন।
এদিকে উইকেটরক্ষক শাই হোপ সুযোগ বুঝে বল পাঠিয়ে দেন বোলিং প্রান্তে থাকা গুড়াকেশ মোতির কাছে। তিলক ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই বল হাতে স্টাম্প ভেঙে রানআউটের আবেদন করেন ক্যারিবীয় এই স্পিনার।
ঘটনার আকস্মিকতায় মাঠের আম্পায়ার সিদ্ধান্ত নিতে তৃতীয় আম্পায়ারের সহায়তা নেন। টেলিভিশন রিপ্লেতে প্রথমে নিশ্চিত হওয়া হয়, বলটি বাউন্ডারি স্পর্শ করেনি। পরে দেখা যায়, স্টাম্প ভাঙার সময় তিলক নিজের ক্রিজ থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিলেন। ফলে তাঁকে রানআউট ঘোষণা করা হয়।
এমন অপ্রত্যাশিত আউটে হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়েন তিলক। মাত্র ১৬ বলে চারটি বাউন্ডারির সাহায্যে ২৮ রান করেছিলেন তিনি। ভালোভাবে উইকেটে থিতু হওয়ার পরও অসতর্কতার কারণে ইনিংস বড় করতে পারেননি এই তরুণ ব্যাটার। তাঁর আউটের ঘটনায় ভারতের ডাগআউটেও হতাশা দেখা যায়। প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকেও অসন্তুষ্ট দেখায়।
ক্রিকেটে এ ধরনের অদ্ভুত রানআউটের ঘটনা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নটিংহ্যাম টেস্টে ভারতের ফিল্ডিংয়ের সময় অনেকটা একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন ইংলিশ ব্যাটার ইয়ান বেল। সেবারও বল বাউন্ডারি হয়েছে ভেবে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসায় রানআউটের ঘটনা ঘটেছিল। যদিও পরে ভারতীয় দল আবেদন প্রত্যাহার করায় ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান বেল।
তবে তিলক ভার্মার ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটেনি। তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে মাঠ ছাড়তেই হয়।
এদিকে আলোচিত এই ঘটনার মধ্যেও ম্যাচে দাপট দেখিয়েছে ভারত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২২৩ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। দলের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩০ বলে ৬৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। এ ছাড়া ঈশান কিষান ৩৭ এবং তিলক ভার্মা ২৮ রান করেন।
জয়ের জন্য ২২৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান সংগ্রহ করে সফরকারীরা। ক্যারিবীয়দের হয়ে শিমরন হেটমায়ার ৪৩ এবং কামিল পুরান ৪২ রান করেন। ভারতের পক্ষে অর্শদীপ সিং শিকার করেন তিনটি উইকেট।
শেষ পর্যন্ত ১৪ রানের জয় তুলে নিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত।
ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি তিলক ভার্মার অদ্ভুত রানআউটের ঘটনাটি ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনায় উঠে এসেছে। ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, ক্রিকেটে প্রতিটি বল শেষ হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকা কতটা জরুরি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সামান্য ভুলেরও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।
মন্তব্য করুন