সায়মন খান | লিড নিউজ ২৪
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেল যোগাযোগ আরও দ্রুত ও আধুনিক করতে নতুন উড়াল রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। রাজধানীর শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত প্রায় ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিকল্প রেলপথ নির্মিত হলে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে। একই সঙ্গে ট্রেনে যাতায়াতের সময় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কমতে পারে।
প্রস্তাবিত এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন রেললাইনটি সম্পূর্ণ উড়াল কাঠামোয় নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা ও নির্মাণপদ্ধতি নির্ধারণ করবে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের চলমান কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা–চট্টগ্রাম রেল করিডরের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে নতুন এই রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পটির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনায় পুরো রেলপথ উড়াল কাঠামোয় নির্মাণের কথা বলা হলেও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুমানিক চার বছর সময় লাগতে পারে।
উড়াল রেলপথে জমি সাশ্রয়ের পরিকল্পনা
প্রস্তাবিত প্রকল্পে পুরো রেললাইন উড়াল কাঠামোয় নির্মাণ করা হলে প্রায় ৩২২ একর জমি সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
তবে এ পদ্ধতিতে নির্মাণব্যয় তুলনামূলক বেশি হবে। মাটির বাঁধ ও উড়াল কাঠামোর সমন্বয়ে রেলপথ নির্মাণ করলে সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াত প্রায় ৭৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে সম্পূর্ণ উড়ালপথ নির্মাণের পরিকল্পনায় ব্যয় বাড়ছে প্রায় ১০ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, অতিরিক্ত ব্যয়ের বিপরীতে জমির ব্যবহার কমানো এবং ভবিষ্যতের অবকাঠামোগত চাহিদা বিবেচনায় উড়াল রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা
নতুন রেলপথটি হবে ডাবল ট্র্যাকের ব্রডগেজ লাইন। এর নকশাগত সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। তবে নিয়মিত ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গতি ধরা হয়েছে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার।
প্রস্তাবিত রেলপথটি ২৫ টন অ্যাক্সেল লোড বহনের উপযোগী করে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার ব্যবস্থাও রাখা হবে।
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই রেলপথ বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
ঢাকা–চট্টগ্রাম যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা
ঢাকা–চট্টগ্রাম রেল করিডর দেশের যাত্রী পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কর্ডলাইন নির্মিত হলে রেলপথের দূরত্ব কমার পাশাপাশি যাত্রীদের সময় সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে পণ্য পরিবহন ও রেল পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বিশেষ করে রাজধানীর সঙ্গে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের যোগাযোগ আরও সহজ হলে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে প্রকল্পটি এখনো প্রস্তাবনা পর্যায়ে রয়েছে। ব্যয়, অর্থায়ন, চূড়ান্ত নকশা, জমি অধিগ্রহণ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নির্ধারণের পরই এর নির্মাণকাজ শুরুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগে সময় ও দূরত্ব কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত সংযোজন হতে পারে।
মন্তব্য করুন