নিজস্ব প্রতিবেদক-মোঃ দেলোয়ার হোসাইন।।
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর ২০২৬:
ঢাকার আশুলিয়ায় আলোচিত পোশাক শ্রমিক বিথী আক্তার (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা জেলা। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা থেকে নিহতের স্বামী ও মামলার মূল অভিযুক্ত মো. মজনু রাজাকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় রাজধানীর উত্তরার সেক্টর-১২, রোড নং-১৪, বাড়ি নং-৩৫ এ অবস্থিত পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদ, পিপিএম-সেবা।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রায় চার বছর পূর্বে রংপুর জেলার পীরগাছা থানার মো. রমজান আলীর ছেলে অটো গ্যারেজ মেকানিক মো. মজনু রাজার সঙ্গে বিথী আক্তারের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তারা আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ন মাঠ এলাকায় বিথীর বাবা-মায়ের বাসার পাশে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে বিথী স্থানীয় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তবে বিথীর কর্মস্থলের সহকর্মীদের সঙ্গে চলাফেরা ও মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে স্বামী মজনুর মনে পরকীয়ার সন্দেহ তৈরি হয়। এ নিয়ে তাদের সংসারে প্রতিনিয়ত দাম্পত্য কলহ চলছিল।
তদন্ত ও আসামির জবানবন্দির সূত্রে পিবিআই জানায়, গত ১২ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টায় গ্যারেজের কাজ শেষে বাসায় ফেরেন মজনু। এ সময় পরকীয়ার সন্দেহে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উত্তেজিত হয়ে মজনু বিথীকে ধাক্কা দিয়ে খাটের ওপর ফেলে দেন এবং খাটে থাকা গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর তিনি ঘরের দরজা খোলা রেখেই পালিয়ে যান।
পরদিন ১৩ আগস্ট ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টায় বিথীর মা মেয়ের কক্ষে গিয়ে খাটের ওপর মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বাদশা মিয়া বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৭৭) দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং এসআই (নিঃ) জুনায়েদ হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল, বিপিএম-সেবার সার্বিক দিকনির্দেশনায় পিবিআই ঢাকা জেলার একটি চৌকস দল রংপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। একপর্যায়ে গত ৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানার সীমান্তসংলগ্ন খাসপাড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে মজনুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ব্রিফিংয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদ বলেন, ঘটনার পরপরই ছায়া তদন্তের মাধ্যমে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো ব্যক্তির প্ররোচনা বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন