লিড নিউজ ২৪|
মালয়েশিয়ায় শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের পাচার করে যৌন শোষণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। ‘গেং ইউনাআ’ (Geng Yunaa) নামের চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ও বিদেশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণের কাজে ব্যবহার করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চক্রটি প্রতি মাসে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত আয় করতে সক্ষম ছিল।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার বুকিত আমান অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিচালক দাতুক এম কুমার এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর সেলাঙ্গর ও কুয়ালালামপুর অঞ্চলে ‘অপস অ্যাঞ্জেল’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই চক্রের আরও দুই সদস্য শিশু পাচার ও যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধে আগে থেকেই পৃথক সংশোধনাগার ও কারাগারে আটক রয়েছেন।
তদন্তে জানা গেছে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে সক্রিয় থাকা চক্রটিতে মোট ১০ জন সদস্য রয়েছে। ত্রিশোর্ধ্ব এক মালয়েশীয় নাগরিক চক্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলে পুলিশের ধারণা। চক্রটির সঙ্গে শিশু পাচার ও যৌন শোষণসংক্রান্ত অন্তত ১৭টি ঘটনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধী চক্রটি স্থানীয় কিশোর-কিশোরী, বিদেশি নাগরিক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের বিভিন্নভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে যৌন শোষণের শিকার করত। পরে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে গ্রাহক সংগ্রহ করা হতো।
তদন্তকারীদের দাবি, চক্রটি প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০ জনকে যৌন শোষণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করত। এ জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ থেকে ৩৫০ রিঙ্গিত পর্যন্ত নেওয়া হতো। অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং কিউআর কোড ব্যবহার করা হতো।
পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১০০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে চক্রটি গড়ে ১৫ হাজার রিঙ্গিত আয় করত। সেই হিসাবে মাসিক আয় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ এবং বার্ষিক আয় ৫৪ লাখ রিঙ্গিত পর্যন্ত হতে পারত। তবে এই অঙ্ক পুলিশের আনুমানিক হিসাব, চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত আয় নয়।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে ১৪টি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অতীতেও মানব পাচার, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, প্রতারণা এবং যৌন শোষণমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ বা অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে চক্রটির আরও একজন সদস্য এখনো পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বুকিত আমান অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিচালক এম কুমার বলেন, শিশুদের যৌন শোষণ কেবল একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, এটি তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও জানান, সংগঠিত অপরাধ দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের পাচার ও যৌন শোষণের মতো অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মামলার তদন্তসংক্রান্ত নথি ইতিমধ্যে মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে চক্রটির নয় সদস্যের বিরুদ্ধে দেশটির দণ্ডবিধির ১৩০ভি(১) ধারায় অভিযোগ আনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পেতালিং জায়া সেশনস আদালতে অভিযুক্ত নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা রয়েছে।
শিশুদের নিরাপত্তা ও মানব পাচার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এ ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে মালয়েশীয় পুলিশ। অপরাধী চক্রটির সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক শনাক্ত এবং পলাতক সদস্যকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন