সিনেমায় সাফল্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কাটানোর বহু মূল্যবান মুহূর্ত হারিয়েছেন—এই আক্ষেপের কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না বলিউড অভিনেতা আমির খান। সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে নিজের জীবন ও কর্মজীবনের কঠিন সময় নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।
আমির জানান, করোনাকালে কাজের ব্যস্ততা থেমে যাওয়ায় নিজের জীবন নিয়ে ভাবার সুযোগ পান। তখন উপলব্ধি করেন, প্রায় তিন দশক ধরে চলচ্চিত্রই তাঁর মনোযোগের বড় অংশ দখল করে রেখেছিল। সেই ব্যস্ততার মধ্যে সন্তানরা বড় হয়ে গেছে, কাছের মানুষদের সঙ্গে সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
তাঁর কথায়, কয়েক বছর কোনো কাজে পুরোপুরি ডুবে থাকা এক বিষয়। কিন্তু একইভাবে ৩০ বছর কাটিয়ে দিলে ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। এই উপলব্ধি তাঁকে গভীর শূন্যতা ও হারানোর বোধে আচ্ছন্ন করেছিল। কথাগুলো বলতে গিয়ে থেমে যান আমির। চোখের পানি মুছে নিজেকে সামলে নিলে উপস্থিত দর্শকেরা করতালির মাধ্যমে তাঁকে সমর্থন জানান।
তবে সেই আত্মোপলব্ধির পর জীবনের অগ্রাধিকার বদলেছেন বলে জানান এই অভিনেতা। গত চার বছর ধরে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের জন্য সচেতনভাবে সময় রাখছেন তিনি। অনেক বেশি বয়সে পৌঁছানোর আগেই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন বলে স্বস্তিও প্রকাশ করেন।
আলোচনায় উঠে আসে কর্মজীবনের শুরুর অনিশ্চয়তার কথাও। ‘কিয়ামত সে কিয়ামত তাক’ সফল হওয়ার পর অল্প সময়ে একাধিক সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন আমির। পরে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারেন, সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। সেই সময়ের অসহায় অবস্থাকে চোরাবালিতে ডুবে যাওয়ার অনুভূতির সঙ্গে তুলনা করেন অভিনেতা।
উৎসবে আমিরকে ‘স্ক্রিন আইকন অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন হংকংয়ের চলচ্চিত্র নির্মাতা পিটার চ্যান। সিঙ্গাপুরের কৌতুকশিল্পী ঋষি বুধরানির সঞ্চালনায় আয়োজিত আলাপচারিতায় নিজের এসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
মন্তব্য করুন