নিউজ ডেস্ক
১৮ ঘন্টা আগে
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১৮ জন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে মিশিগানে প্রতিবেশীদের মধ্যেও তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক বিভাজন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ— এই দুই ইস্যুতে মতবিরোধে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন প্রতিবেশীরাও।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

মিশিগানের অবসরপ্রাপ্ত গাড়ি কারখানার দুই কর্মী মাইক ও রিচের বাড়ির দূরত্ব মাত্র কয়েক সেকেন্ডের। কিন্তু রাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে তাদের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।

মিশিগানে সিনেট আসনটির লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছেন বামপন্থী ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক আবদুল এল-সাইয়েদ এবং ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। জনমত জরিপে দুই প্রার্থী প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছেন।

৬৭ বছর বয়সী মাইক ক্রাইসলার গাড়ি কোম্পানির অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ এবং এ যুদ্ধের পেছনে করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি তাকে উদ্বিগ্ন করছে।

মাইকের ভাষায়, ‘রিপাবলিকানরা যদি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়, তাহলে এই লোক (ট্রাম্প) আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবেন। তিনি নিজেকে গ্যাংস্টার মনে করেন।’

তবে মাইকের প্রতিবেশী রিচ ডিমিশেলের অবস্থান ঠিক উল্টো। ইরান ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সাইয়েদের অবস্থানকে দুর্বল মনে করায় তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করছেন।

ইতালির পতাকাসংবলিত টুপি পরা রিচ বলেন, ‘আমি প্রার্থনা করছি, আবদুল যেন নির্বাচিত না হন। এমন একজনকে আমি কোনোভাবেই ভোট দেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে তিনি একজন মুসলিম, আর তিনি আমেরিকাকে ঘৃণা করেন। তাকে ওই পদে বসানো মানুষের সবচেয়ে বোকামির কাজ হবে।’

ইসরাইলের কড়া সমালোচক এল-সাইয়েদ ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন রিচ। তার আশা, এ অবস্থানের কারণে নির্বাচনে এল-সাইয়েদকে মূল্য দিতে হবে।

তবে ইরানের যুদ্ধ রিচের প্রতিবেশী মাইকের পরিবারের জন্যও উদ্বেগের কারণ। মাইকের ছেলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত। ওই অঞ্চলে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন এবং সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে ২০ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন।

মাইক বলেন, ‘আমার করের টাকা কোনো অসহায় পরিবারের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হোক, সেটাই আমি চাই। কোনো বখাটের পকেটে যাক, তা চাই না। অথচ এখন আমার টাকা সেখানেই যাচ্ছে। এর খরচ কে বহন করছে? আমি করছি। প্রতিবার মুদি দোকানে গেলে আমাকে এর মূল্য দিতে হয়, প্রতিবার গ্যাস কিনতে গেলেও দিতে হয়।’

নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে কতটা তীব্র আবেগ তৈরি হয়েছে, তা বোঝা যায় মাইকের আচরণেও। বহু বছর ধরে ফোন ধরেন না বলে দাবি করা এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মী নিজের পদবি প্রকাশ করতেও রাজি হননি।

‘আমি ট্রাম্পের সমর্থক নই’

৭৮ বছর বয়সী রিচও ক্রাইসলারের সাবেক কর্মী। তার অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা তার মতো বয়স্ক ভোটারদের অবহেলা করছে এবং তরুণ ও অভিবাসী পরিবারের ভোটারদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

রিচ বলেন, ‘তারা চায় অবৈধ অভিবাসীরা এসে ভোট দিক।’

মিশিগানের এই নির্বাচনী লড়াইয়ে দুই দলই বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে আরও কঠোর প্রচারবিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।

২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সমর্থন করলেও ২০২৪ সালে মিশিগানের ভোটাররা অল্প ব্যবধানে ট্রাম্পকে জয়ী করেছিলেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনেও অঙ্গরাজ্যটির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ওয়ারেন শহরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন ৩২ বছর বয়সী মরিস স্টার। তিনি ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স (ইউএডব্লিউ) শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এবং পেশায় বীমা খাতের কর্মী।

ইউনিয়নের সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় তিনি ধৈর্য ধরে ভোটারদের অভিযোগ শুনছেন। এ সময় আশপাশে অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রোন উড়ছিল, আর বাড়ির মালিকরা নিজেদের উঠোনের পরিচর্যা করছিলেন।

স্টার বলেন, ‘আমরা এই বাড়িতে এবং এর আগের বাড়িতেও যা শুনেছি, তাতে মনে হয়েছে, মানুষ মনে করছে দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ প্রশ্ন করছে, তাহলে আমি ভোট দেব কেন? এ কারণেই আমরা মাঠে নেমেছি।

আমরা আশা করছি, এসব নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটাতে পারব।’

স্টারের হাতে ছিল মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্বাচনী আসনে ইউনিয়ন-সমর্থিত প্রার্থীদের পরিচিতি-সংবলিত প্রচারপত্র। এর মধ্যে সিনেট নির্বাচনও রয়েছে।

তার সঙ্গে প্রচারে অংশ নেওয়া ৪৫ বছর বয়সী রব ব্যাংকস জেনারেল মোটরসের একটি বডি শপের টিম লিডার। তিনি ইউনিয়নের সক্রিয় ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের তালিকা ধরে ফোন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যাতে তাদের ইউনিয়ন-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে যুক্ত করা যায়। এসব প্রার্থীই ডেমোক্র্যাট দলের।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ :

ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিও ভোটারদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে।

৮৫ বছর বয়সী সু অ্যাডামস্কি বলেন, ‘প্রতি মাসে যে সামান্য টাকা পাই, তার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে, গ্যাসের দামও বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘না, পরিস্থিতি কঠিন। এভাবে বলতে পারেন, আমি ট্রাম্পের সমর্থক নই। ১৫ বছর আগেও তাঁকে পছন্দ করতাম না, এখনো করি না।’

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নওগাঁয় হালিমার হত্যাকান্ডের অভিযোগে গ্রেফতার – ৪

১

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: আগাম জানত না দূতাবাস, গোপন নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

২

পুকুরে ডুবে জমজ দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃ/ত্যু

৩

বাঁচা-মরার ম্যাচেও ব্যাটিং বিপর্যয়, ৬ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ

৪

শার্শায় ১৮টি স্বর্ণের বার ও মোটরসাইকেল সহ চোরা চালানকারী গ্রে/প্তার

৫

ব্যাটে ফিফটি, বলে ৬ উইকেট—মিনহাসের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল পাকিস্তান

৬

বীরগঞ্জে পুজারী, দর্শনার্থীসহ দুর্গাপূজার নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চেয়ারম্যানগন

৭

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে মিশিগানে প্রতিবেশীদের মধ্যেও তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন

৮

সরকার বিরোধীরা আবোল-তাবোল বলছে : খোকন তালুকদার এমপি

৯

মনোহরগঞ্জের হাটিরপাড় প্রবাসী ও যুব সমাজ উদ্যোগে মিনিবার ফুটবল ফাইনাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

১০

যশোরের শার্শায় প্রকাশ্যে পি/স্তল প্রদর্শনের অভি/যোগ, এলাকায় আ/তঙ্ক থা/নায় জিডি

১১

টঙ্গী বাজার মন্দিরে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের নেতৃবৃন্দ, শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়

১২

শোভাবর্ধনে ‘আই লাভ ইউ মধুখালী’ উদ্বোধন

১৩

মৃত্যুদণ্ডের আগের সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে শেষ কথা, সুইটির মরদেহ ফেরত চান মা

১৪

নেএকোণায় সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মানববন্ধন

১৫

মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে দড়ি লাপাংয়ের মানুষ,সরজমিনে এমপি মান্নান!

১৬

সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ছয় দিনেও অজানা কারণ, শোকে প্রাণ গেল ফুফুর

১৭

ডিমলায় পূজামণ্ডপে বিএনপি নেতারা, দিলেন আর্থিক অনুদান

১৮

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে কার্যকর ইশরাকের পদত্যাগ, প্রজ্ঞাপন জারি

১৯

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন গৌরনদীর আধুনা গ্রামের মসজিদ ও মন্দির

২০