লিড নিউজ ২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাসহ মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ শনিবার (৩ অক্টোবর) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে আরও তিনজন গ্রেপ্তার হন। আলোচিত এ ঘটনায় গত নয় দিনে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ গ্রেপ্তার তিনজন হলেন রাকিব আহমেদ সোহেল (৪৬), সারোয়ার আলম পিয়াস (৩৫) এবং সাজ্জাদ হোসেন মিশু ওরফে মোল্লা (৩৬)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে রাকিব যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, সারোয়ার ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং সাজ্জাদ শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্য। সারোয়ারকে এর আগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে তাঁদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১ এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রবেশ করেন। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ওষুধ, টিকা, চিকিৎসাসামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর সেখানে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়।
ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তাঁদের কয়েকজন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি)-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ফেরদৌসী আহমেদ পদত্যাগ করেন।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের মধ্যে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার বিষয়টি সরাসরি বলা হয়নি। দলীয় একাধিক সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এসব সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম খোকন, মো. আলম ও যুবদলের সাবেক সভাপতি নূর আলমের নামও এসেছে। সর্বশেষ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন মিশুর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয় নিয়েও তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহনে যুক্ত একটি বড় গাড়ির চালককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙচুরে অর্থের বিনিময়ে অংশ নেওয়ার অভিযোগে কয়েকজন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, হামলার নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চলছে এবং গ্রেপ্তারে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এর পেছনে কারা নির্দেশ দিয়েছেন—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন