মো : রাজ হাওলাদার
মোংলা প্রতিনিধি (বাগেরহাট)
: সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য এলাকায় পর্যটকবাহী জাহাজে দুর্বৃত্তদের ডাকাতির চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বনবিভাগ। বনরক্ষীদের দ্রুত তৎপরতা ও চার রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের মুখে পিছু হটে সাগরের দিকে পালিয়ে যায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা।
শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা খালের সাগর মোহনায় এ ঘটনা ঘটে।
বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই সময় কটকা খালের সাগর মোহনায় ‘দি ওয়েভ-২’ নামের একটি পর্যটকবাহী জাহাজ নোঙর করা ছিল। পাশেই অবস্থান করছিল ‘আরালসী’ নামের আরও একটি পর্যটকবাহী জাহাজ। দুই জাহাজে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৯৭ জন পর্যটক ছিলেন।
‘দি ওয়েভ-২’-এর মাস্টার মো. শামিম আলম জানান, একটি ইঞ্জিনচালিত ফিশিং ট্রলারে একদল দুর্বৃত্ত জাহাজের দিকে সন্দেহজনকভাবে এগোতে থাকে। ট্রলারটির গতিবিধি দেখে সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় জেলে ও বনরক্ষীদের জানানো হয়।
সংবাদ পেয়ে কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার তানভীর হাসান ইমরানের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা ট্রলার ঘুরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে বনরক্ষীরা চার রাউন্ড গুলি চালালে ট্রলারটি দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করে গভীর সাগরের দিকে কেটে পড়ে।
বনরক্ষীদের এমন সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে জাহাজে থাকা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পান। ঘটনার পর পর্যটকদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে সুন্দরবনের ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের কটকার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বনবিভাগ বনাঞ্চল ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সুন্দরবনে টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন