লিড নিউজ ২৪:
বলিউড অভিনেতা ডিনো মোরিয়াকে মুম্বাইয়ের মিঠি নদী খনন ও পুনরুজ্জীবন প্রকল্পে কথিত আর্থিক অনিয়মের মামলায় দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মুম্বাই পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOW)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) তাকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসেও ডিনো ও তাঁর ভাই স্যান্টিনো রোকো মোরিয়াকে এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে ডিনো মোরিয়ার যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর তাঁকে ফের তলব করা হয়। বিশেষ করে ফোন রেকর্ড ও কিছু আর্থিক লেনদেনের বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি মোরিয়া পরিবারের সঙ্গে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কেতন কাদমের পরিবারের ব্যবসায়িক যোগাযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মুম্বাইয়ের প্রায় ১৭ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মিঠি নদীর পলি ও আবর্জনা অপসারণের কাজকে ঘিরেই এই তদন্ত। অভিযোগ, নদী খননের জন্য দেওয়া বিভিন্ন সরকারি চুক্তিতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, যন্ত্রপাতির অতিরিক্ত ভাড়া এবং অপসারণ করা পলির পরিমাণের নথিতে কারচুপির মাধ্যমে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (BMC) প্রায় ৬৫ কোটি ৫৪ লাখ রুপি ক্ষতি হয়েছে। মামলায় ১৩ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২০ সালের অক্টোবরে BMC-এর কয়েকজন কর্মকর্তা কোচির একটি প্রতিষ্ঠান থেকে নদী খননের বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি কেনেন। পরে যে দরপত্র প্রকাশ করা হয়, তাতে ওই যন্ত্রপাতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদাররা যন্ত্র কিনতে গেলে তাঁদের অন্য ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হয় এবং পরবর্তী সময়ে যন্ত্রপাতি কেনার পরিবর্তে বেশি দামে ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
মামলায় কেতন কাদমকে ২০২৫ সালের মে মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা কাদমের প্রতিষ্ঠান Woder India LLP কীভাবে মিঠি নদীর খননকাজের চুক্তি পেয়েছিল, সেটিও খতিয়ে দেখছেন। একই মামলায় জয়েশ জোশির নামও তদন্তে এসেছে।
ডিনো মোরিয়ার সঙ্গে মামলার যোগসূত্রের ক্ষেত্রে তদন্তকারীরা তাঁর ভাই স্যান্টিনো মোরিয়ার ব্যবসায়িক সম্পর্কও পরীক্ষা করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, স্যান্টিনো মোরিয়া, ডিনো মোরিয়া এবং কেতন কাদমের স্ত্রী পুনিতা কাদম একই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন। কাদম পরিবারের সঙ্গে মোরিয়া পরিবারের আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতিও যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে, ২০২৫ সালের জুনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) মিঠি নদী খননকাণ্ডের অর্থপাচার তদন্তের অংশ হিসেবে মুম্বাই, কোচি ও থ্রিসুরে একাধিক স্থানে তল্লাশি চালিয়েছিল। সেই অভিযানের আওতায় ডিনো ও স্যান্টিনো মোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানও ছিল। ED-এর তথ্যমতে, মামলাটি BMC-এর ৬৫ কোটির বেশি রুপির কথিত ক্ষতির অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ডিনো মোরিয়াকে ঘিরে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য এসেছে। তবে EOW-এর পক্ষ থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে; তদন্তের এই পর্যায়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলায় নির্দিষ্ট ভূমিকা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ্যে নিশ্চিত নয়। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে কথিত অনিয়ম হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন