বিনোদন ডেস্ক | লিড নিউজ ২৪
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে অভিনেত্রী জানভি কাপুরকে নিয়ে বিকৃত ভিডিও তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা জুনিয়র এনটিআর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘চুট্টামাল্লে’ গানের বিকৃত ভিডিওর বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি জানিয়েছেন, ভিডিওটি তৈরি ও প্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জুনিয়র এনটিআর এআই প্রযুক্তির এমন অপব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের কাজ ঘৃণ্য, অসুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক এবং লজ্জাজনক।
এআই দিয়ে নারীর মর্যাদাহানি, ক্ষুব্ধ অভিনেতা
জুনিয়র এনটিআর তাঁর পোস্টে বলেন, যে সমাজে নারীদের মা ও দেবী হিসেবে সম্মান করার ঐতিহ্য রয়েছে, সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে একজন নারীকে অপমান করার মতো ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কাউকে হেয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অভিনেতা স্পষ্ট করে জানান, ‘চুট্টামাল্লে’ গানের বিকৃত ভিডিওটির নির্মাতা এবং যারা এটি ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভক্ত ও সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ভিডিওটি দেখা বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান
জুনিয়র এনটিআরের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু বিনোদনজগতের তারকাদের জন্য নয়, যেকোনো নারীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। এ কারণে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকারের প্রতি এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি এর দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এই অভিনেতা।
‘দেভারা’ ছবির জনপ্রিয় গান ঘিরে বিতর্ক
জুনিয়র এনটিআর ও জানভি কাপুর অভিনীত ‘চুট্টামাল্লে’ গানটি ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া তেলুগু সিনেমা ‘দেভারা: পার্ট ১’-এর অংশ। গানটির সুর করেছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর এবং কণ্ঠ দিয়েছেন শিলপা রাও।
ছবিটিতে জুনিয়র এনটিআরের সঙ্গে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তেলুগু সিনেমায় অভিষেক হয় জানভি কাপুরের। মুক্তির পর গানটি দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। তবে গানটির দৃশ্য ব্যবহার করে এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি বিকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে এটি।
ঘটনাটি আবারও সামনে এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ভুয়া বা বিকৃত ভিডিও তৈরির ঝুঁকি। বাস্তব ব্যক্তির ছবি ও ভিডিও পরিবর্তন করে বিভ্রান্তিকর কিংবা অপমানজনক কনটেন্ট তৈরি করা হলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মান ও গোপনীয়তার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
লিড নিউজ ২৪-এর পর্যবেক্ষণ: এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এর দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অনুমতি ছাড়া কারও ছবি বা ভিডিও বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অনলাইনে কোনো বিতর্কিত ভিডিও দেখলে যাচাই ছাড়া সেটি শেয়ার না করাই দায়িত্বশীল আচরণ।
মন্তব্য করুন