সায়মন খান | লিড নিউজ ২৪
নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-২ ইআর’ (Fatah-2 ER)-এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। নতুন এই পরীক্ষাকে পাকিস্তানের সামরিক প্রযুক্তি ও দূরপাল্লার আক্রমণ সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরেছে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল উৎক্ষেপণের তথ্য নিশ্চিত করে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘ফাতাহ-২ ইআর’ মূলত ফাতাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত ও বর্ধিত পাল্লার সংস্করণ। এতে অত্যাধুনিক নেভিগেশন প্রযুক্তি, উন্নত অ্যাভিওনিকস ব্যবস্থা এবং বিশেষ গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশপথে চলাচলের সময় নিজের গতিপথ পরিবর্তন করে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটির বিশেষ উড্ডয়নপথ ও গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি বর্ধিত পাল্লার কারণে দূরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়বে।
তবে নতুন সংস্করণটির সর্বোচ্চ পাল্লা, পরীক্ষাকালে অর্জিত গতি কিংবা ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক কত দূরত্ব অতিক্রম করেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি আইএসপিআর। হাইপারসনিক সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করার দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর রকেট ফোর্স কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান জাকারিয়া, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা।
সফল উৎক্ষেপণের পর রকেট ফোর্স কমান্ডের প্রধান ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্নয়ন ও পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন।
এদিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও সামরিক কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর পাকিস্তান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ‘ফাতাহ-৪’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বর্ধিত পাল্লার সংস্করণের সফল পরীক্ষা চালায়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এবার ফাতাহ-২ ইআর ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হলো।
পাকিস্তান ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ফাতাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি সংস্করণের সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল। সে সময় দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। পরবর্তী সময়ে ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে একাধিক পরীক্ষা চালানো হয়।
সামরিক প্রযুক্তিতে হাইপারসনিক বলতে সাধারণত শব্দের গতির অন্তত পাঁচ গুণ গতিসম্পন্ন অস্ত্রকে বোঝায়। তবে শুধু উচ্চগতি নয়, উড্ডয়নকালে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতাও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক আধুনিকায়ন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের এই উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের সামরিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দাবি, নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে ফাতাহ-২ ইআরের প্রকৃত পাল্লা, গতি ও কার্যকারিতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় এর সক্ষমতা স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা এখনো সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন