
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজীব চন্দ্র দাস নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার বিষয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছিলেন ওই ব্যক্তি।
সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। একই ঘটনায় রোববার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২০ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, সোমবার ভোরে রাজীব চন্দ্র দাসকে আটক করা হয়েছে। তবে আটকের পরপরই তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
রোববার (১ নভেম্বর) ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাকশ্রমিকেরা।
সকাল থেকেই শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল থেকে বেলা একটা পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে।
ঘটনার পরপরই জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। রোববার দুপুরে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৯ জনকে আটকের কথা জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অভিযান অব্যাহত, আরও আটকের তথ্য পুলিশের
পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
রোববার রাতেও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযান চলমান থাকায় আটক ব্যক্তিদের চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে আটক রাজীব চন্দ্র দাসের সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তা শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন