সায়মন খান | লিড নিউজ ২৪
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ধানখেত থেকে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কক্সবাজার থেকে রাজু চৌধুরী নামের এক হোটেল কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে একই ঘটনায় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে রাজু চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাড়ি বান্দরবানের লামা উপজেলায়। তিনি মনির আহমদের ছেলে এবং কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরের ভাড়া বাসা থেকে বের হয়েছিল ওই স্কুলছাত্রী। এরপর প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং পরে কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারে যায় সে। তদন্তের একপর্যায়ে কক্সবাজারের একটি স্থানের সিসিটিভি ফুটেজে গত ৬ অক্টোবর রাজু চৌধুরীর সঙ্গে ওই কিশোরীকে দেখা যায়।
এই ফুটেজের সূত্র ধরে রাজুর অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় তাঁর সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর উত্তরপাড়া এলাকায় মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি ধানখেত থেকে ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তে নেমে শুক্রবার সুমন মিয়া নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেখানো স্থান থেকে নিহত স্কুলছাত্রীর ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (৭ অক্টোবর) গভীর রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার নূরজাহান হোটেলসংলগ্ন তিশা বাস কাউন্টারের কাছে বাড়ি ফেরার জন্য অটোরিকশা খুঁজছিল ওই কিশোরী। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সুমনের অটোরিকশায় ওঠে সে। দর-কষাকষির পর ৩০০ টাকায় তাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে রাজি হন চালক।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বাড়ির দিকে না গিয়ে অটোরিকশাটি বিপরীত পথে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যান সুমন। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, তিনি প্রথমে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বিজরা বাজারের দিকে যান। পরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে লালমাইয়ের জগৎপুর এলাকায় পৌঁছান।
পুলিশের দাবি, সেখানে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সুমন। এ সময় কিশোরী চিৎকার করলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। পরে ধানখেতে নিয়ে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সুমন মিয়া আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
এদিকে কক্সবাজার থেকে রাজু চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের আগে ওই স্কুলছাত্রীর চলাফেরা এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, রাজুকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে তাঁর অথবা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে রাজুকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কুমিল্লা থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্সবাজারে পৌঁছালে তাঁকে হস্তান্তর করা হবে।
তদন্তকারীরা এখন ওই কিশোরীর কুমিল্লা থেকে কক্সবাজার যাওয়া, সেখানে অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে কুমিল্লায় ফিরে আসার ঘটনাপ্রবাহ যাচাই করছেন। বিশেষ করে কক্সবাজারে গ্রেপ্তার রাজুর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের প্রকৃতি এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেই যোগাযোগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়াই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন