সায়মন খান | লিড নিউজ ২৪
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেত থেকে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে নির্জন এলাকায় নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন মিয়া (৩৫) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্ত এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে ওই শিক্ষার্থী। চালকের সঙ্গে ৩০০ টাকা ভাড়াও নির্ধারণ করা হয়। যাত্রার একপর্যায়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক তাকে স্বাভাবিক পথের পরিবর্তে অন্য একটি সড়কে নিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কের বিজরা বাজার হয়ে লালমাইয়ের দিকে যাওয়ার পর একটি নির্জন ও অন্ধকার স্থানে অটোরিকশাটি থামানো হয়। সেখানে চালকের আচরণে সন্দেহ হলে কিশোরী নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হলে সে বাধা দেয় এবং চিৎকার শুরু করে। পুলিশের ভাষ্যমতে, ধস্তাধস্তির মধ্যে চালক গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যান সুমন। যাওয়ার আগে কাছের একটি পুকুরে গোসল করেন তিনি। এ সময় নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত একটি আইফোন নিয়ে যান এবং পরবর্তী সময়ে সেটি ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে ঘটনার রাতে বিপদ বুঝতে পেরে বাবার মুঠোফোনে নিজের অবস্থান জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছিল কিশোরীটি। কিন্তু গভীর রাতে পাঠানো সেই বার্তা তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারেননি তার বাবা। পরদিন সকালে বার্তাটি দেখার পর মেয়েকে খুঁজতে বের হন তিনি। ততক্ষণে লালমাইয়ের একটি ধানখেতের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর এলাকায় ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনার তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও লালমাই থানা-পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং অটোরিকশাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন চালককে শনাক্ত করা হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশের দাবি, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেপ্তার সুমন মিয়ার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন এবং লালমাই এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার চালকের এককভাবে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
মন্তব্য করুন