লিড নিউজ ২৪ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তে গুলিতে দুই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককে তলব করেছে পাকিস্তান। শুক্রবার (২ অক্টোবর) পাঞ্জাবের সীমান্তবর্তী বেদিয়ান সেক্টরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঘটনার পর শনিবার (৩ অক্টোবর) ভারতীয় চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানায় ইসলামাবাদ। একই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। (Ministry of Foreign Affairs Pakistan)
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, নিহত দুই ব্যক্তি নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের ওপর বিনা উসকানিতে প্রাণঘাতী গুলি চালিয়েছে। ইসলামাবাদ নিহতদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টাও প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি জীবনধারণের মৌলিক অধিকারসহ মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে এনেছে। (Ministry of Foreign Affairs Pakistan)
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে ভারতকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তদন্তে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং তদন্তের ফলাফল ও গৃহীত পদক্ষেপ আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান সরকারকে জানানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা মেনে চলা, সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ। (Ministry of Foreign Affairs Pakistan)
তবে ঘটনার বিষয়ে ভারতীয় পক্ষের বর্ণনা ভিন্ন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে নিরাপত্তা ও স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তিন ব্যক্তি পাকিস্তান থেকে ভারতের দিকে এগিয়ে আসছিলেন। তাদের মধ্যে একজন পরে পাকিস্তানের দিকে ফিরে গেলেও অন্য দুজন ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। সতর্ক করার পরও তারা এগিয়ে যাওয়ায় বিএসএফ গুলি চালায় বলে স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় পক্ষের প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। (India Today)
অন্যদিকে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দাবি, নিহতরা সীমান্ত এলাকার বেসামরিক নাগরিক এবং তারা অসাবধানতাবশত আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনজনই নিরস্ত্র ছিলেন এবং সীমান্তের একটি পিলারের কয়েক ধাপ সামনে যাওয়ার পর তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। এ কারণে দুই দেশের পক্ষ থেকে ঘটনার পরিস্থিতি ও নিহতদের পরিচয় নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। (AP News)
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই ব্যক্তির নাম আজমত রাসুল ও মোহসিন জাট। তারা পাকিস্তানের লাহোরসংলগ্ন কাসুর জেলার লাধার গ্রামের বাসিন্দা বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আহত তৃতীয় ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় পক্ষের প্রকাশিত বক্তব্যে নিহতদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। (Dawn)
সীমান্তে এই গুলির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। দুই দেশের মধ্যে কাশ্মীর ইস্যু ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ২০২৫ সালে কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে সংঘাতের অবসান হলেও সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। (AP News)
সর্বশেষ সীমান্ত ঘটনার ক্ষেত্রে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং তদন্তের দাবি তুলেছে। ভারতের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ফলে নিহত দুই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয়, তারা কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন এবং গুলি চালানোর পরিস্থিতি কী ছিল—এসব বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের পার্থক্য দূর করতে একটি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। (Al Jazeera)
মন্তব্য করুন