আন্তর্জাতিক ডেস্ক | লিড নিউজ ২৪: মাঝআকাশে ককপিটে সহ-পাইলটের হামলায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় পাইলটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। এমন সংকটময় মুহূর্তে ছয় বছরের এক শিশুর চিৎকারই শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঘটনাটি ঘটে দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৯ মিনিটে উড্ডয়নের পর প্রায় আড়াই ঘণ্টা সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। পরে বিমানটি ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছালে ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় ছয় বছরের নিনা মানেস তার মা টালি মানেসের সঙ্গে বিমানের সামনের দিকে থাকা শৌচাগারে গিয়েছিল। শৌচাগারের কাছেই ছিল ককপিট। ভেতর থেকে তর্ক-বিতর্ক ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুটি।
একপর্যায়ে শৌচাগার থেকে বেরিয়ে বাবাকে উদ্দেশ করে নিনা চিৎকার করে বলে, ‘বাবা, আমরা মরতে চাই না।’
মেয়ের চিৎকার শুনে সামনের সারিতে বসে থাকা বাবা টিজভিকা মানেস দ্রুত ছুটে যান। ককপিটের কাছে পৌঁছে তিনি দেখতে পান, ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ, তখনও সহ-পাইলট তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করছিলেন।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মানেস আরও দুই যাত্রীর সঙ্গে মিলে হামলাকারীকে আটকানোর চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত তারা সহ-পাইলটকে কাবু করতে সক্ষম হন। এমনকি বিমানে থাকা হেডফোনের তার ব্যবহার করে তাঁর হাত বেঁধে ফেলা হয়।
এদিকে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা। বিমানের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন বিমানে থাকা আরও দুই ‘অফ-ডিউটি’ পাইলট। তাঁদের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে সেখানে আটক করা হয়। আহত ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিমানে থাকা একজন চিকিৎসক যাত্রীও মাঝআকাশে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসায় সহায়তা করেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় স্মিতের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে। গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি ককপিটের দরজা খুলে যাত্রীদের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ফ্লাইটের যাত্রীরা কয়েক ঘণ্টা তাবুকে অবস্থান করেন। পরে তাদের জন্য বিকল্প বিমান পাঠানো হয় এবং সেটিতে করে তারা তেল আবিবে পৌঁছান।
মাঝআকাশে ঠিক কী কারণে সহ-পাইলট এমন হামলা চালিয়েছিলেন এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে ছয় বছরের নিনা মানেসের আকস্মিক চিৎকার থেকে শুরু করে তার বাবাসহ কয়েকজন যাত্রীর দ্রুত পদক্ষেপ এবং অফ-ডিউটি পাইলটদের হস্তক্ষেপ—সব মিলিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
মন্তব্য করুন