একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনা ও সমালোচনার পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে বোঝাতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ ও অর্জনকে উৎসাহিত করা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন শিক্ষামন্ত্রী। একই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও তাঁর বক্তব্যের স্পষ্টীকরণ প্রকাশ করা হয়।
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জনের প্রসঙ্গ তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
বক্তব্যের ওই অংশ নিয়ে আলোচনা তৈরি হলে নিজের শব্দচয়ন সংশোধন করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, তিনি মূলত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে এহছানুল হক মিলন ব্যাখ্যা করেন, অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বক্তব্য দিয়েছিলেন। সমাজের নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এই জনগোষ্ঠীর মানুষের শিক্ষাঙ্গনে এগিয়ে আসাকে উৎসাহিত করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।
শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তৃতীয় লিঙ্গের অনেক মানুষ সামাজিক অবহেলা, বঞ্চনা ও নেতিবাচক মনোভাবের মুখোমুখি হন। এমন পরিস্থিতিতেও তাঁদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও অর্জনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
নিজের বক্তব্যের শব্দচয়ন প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বোঝাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত অন্য একটি শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। বিষয়টি স্পষ্ট করতেই পরবর্তী সময়ে সংশোধনী দিয়েছেন তিনি।
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক অনুভূতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি তাঁর পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল না।
শিক্ষামন্ত্রী আরও পরিষ্কার করেন, অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতি।
তাঁর এই ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে আলোচিত বক্তব্যটির উদ্দেশ্য ও ব্যবহৃত শব্দ সম্পর্কে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অবস্থান সামনে এলো।
মন্তব্য করুন