জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাবা-মেয়েকে হত্যার অভিযোগ, একজন আটক
নিজস্ব ডেস্ক | লিড নিউজ ২৪
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হয় শিশু তোয়াবা। দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয়েছে তার বাবা গোলাপ হোসেনকে। অন্যদিকে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সকালে একটি কাশবন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছোট্ট তোয়াবার গলাকাটা লাশ। একই পরিবারের বাবা-মেয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় একটি ইটভাটার পাশের কাশবন থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার বাবা গোলাপ হোসেন।
নিহত গোলাপ হোসেন রামকৃষ্ণদী গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে একই ইউনিয়নের দোসরপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। পেশায় দিনমজুর গোলাপ বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নিজের বাবার বাড়িতে গিয়েছিলেন গোলাপ। সেখান থেকে ফেরার পথে ইটভাটা এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে বাবা ও মেয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় গোলাপ বাড়িতে ফিরতে পারলেও তাঁর মেয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
এরপর পরিবারের সদস্যরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে তোয়াবাকে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ইটভাটার পাশের কাশবনে শিশুটির রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।
এদিকে হামলায় আহত গোলাপ হোসেনকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে কেরানীগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
জমির বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ
নিহতদের স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে বাবা ও মেয়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গোলাপ হোসেনের নানার বাড়ির জমি নিয়ে প্রতিবেশী সোহরাব হোসেনের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
নিহত গোলাপের মা হাসু বেগম অভিযোগ করেন, জমির বিরোধের কারণে তাঁর ছেলেকে আগেও কয়েকবার মারধর করা হয়েছিল। বুধবার রাতে সোহরাব ও তাঁর সহযোগীরা গোলাপ এবং শিশু তোয়াবার ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ছেলে ও নাতনিকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়া হাসু বেগম এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
সন্দেহভাজন একজন আটক, পুলিশের অভিযান অব্যাহত
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হাসান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি জানান, মৃত্যুর আগে গোলাপ হোসেন হামলায় সোহরাবসহ কয়েকজনের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিলেন। এ ঘটনায় সোহরাব হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্য সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করছে।
উদ্ধার করা শিশু তোয়াবার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
একটি জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বাবা ও শিশুকন্যার এমন মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্বজনেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন