সেনাঘাঁটির গোপন তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় পুলিশ। এ ঘটনায় আরও সেনাসদস্য জড়িত থাকার আশঙ্কা করছেন তদন্তকারীরা।
পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোপন ও সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে এক সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পাঞ্জাব পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারা সেনাঘাঁটি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সেনাসদস্যের নাম রাজবীর সিং। তিনি ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সেনাঘাঁটির অবস্থান ও সামরিক কার্যক্রমসংক্রান্ত গোপন তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পাঞ্জাব পুলিশের বিশেষ অভিযান শাখার একটি দল হাসিমারা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তাঁকে শিলিগুড়ির আদালতে হাজির করা হলে আদালত দুই দিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর পাঞ্জাবের ফাজিলকায় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন বা অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতায় একটি মামলা করা হয়। মামলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সরবরাহের অভিযোগ আনা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত অন্তত দুই সদস্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে সামরিক স্থাপনা ও সেনাঘাঁটিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হলে রাজবীর সিংয়ের নাম সামনে আসে।
পুলিশের অভিযোগ, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তা নির্দিষ্ট যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেন গোয়েন্দারা।
মামলাটির সঙ্গে যুক্ত সরকারি আইনজীবী সৌমিত্র সিং সরকার জানিয়েছেন, তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে রাজবীর সিংকে খুঁজছিল পুলিশ। পরে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে হাসিমারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার আদালতে হাজির করার পর তাঁকে পাঞ্জাবে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চায় পুলিশ। আদালত দুই দিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করে আগামী ১ নভেম্বর ফাজিলকার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। এরপর তাঁকে নিয়ে পাঞ্জাবের উদ্দেশে রওনা হন তদন্তকারীরা।
এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে আরও বড় কোনো গুপ্তচর চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পাঞ্জাব পুলিশের বিশেষ অভিযান শাখা।
বিশেষ করে সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, কার মাধ্যমে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আরও কোনো সেনাসদস্য বা বেসামরিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
একই সঙ্গে ইতিমধ্যে কী ধরনের সামরিক তথ্য পাচার হয়েছে এবং সেগুলোর গুরুত্ব কতটা, সেটিও যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে।
তবে তদন্তের স্বার্থে তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতি, সন্দেহভাজন অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা উদ্ধার করা সম্ভাব্য প্রমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তদন্তকারীরা।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে। দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সামরিক তথ্য সংগ্রহ ও পাচারের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা সামরিক তথ্যের নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।
তবে রাজবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে তাঁর প্রকৃত ভূমিকা এবং সম্ভাব্য অন্য সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতা নির্ধারণ করা হবে।
তদন্তকারীরা এখন জানতে চাইছেন, ঘটনাটি কয়েকজন ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন তৎপরতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বিস্তৃত কোনো গুপ্তচর নেটওয়ার্ক।
মন্তব্য করুন