সায়মন খান | লিড নিউজ ২৪
রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, ঘোষণার পরও তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। অন্যদিকে, ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ দিতে ৬০ দিনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি চায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ রুশ কর্মকর্তারা স্থায়ী শান্তির পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন।
এর আগে রোববার এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দুই মাসের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এমন বিরতি পাওয়া গেলে দেশে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে। যুদ্ধকালীন বিধিনিষেধের কারণে ইউক্রেনে বর্তমানে নির্বাচন আয়োজনের আইনি বাধা রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের ঘোষিত জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের সমঝোতা সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন না বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। সোমবার পোল্যান্ডের ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে ভিডিও সংযোগে বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছে কিয়েভ। রাশিয়া এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কি না, তারও প্রকাশ্য প্রমাণ দেখেননি তিনি।
জেলেনস্কির অভিযোগ, ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই খারকিভের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এর আগে হামলায় কিয়েভের বড় অংশে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়। ইউক্রেনের একটি গ্যাস উৎপাদন স্থাপনা ও জ্বালানি পাম্পেও হামলার অভিযোগ তোলেন তিনি।
তবে পারস্পরিকভাবে হামলা বন্ধের উদ্যোগে সাড়া দিতে প্রস্তুত ইউক্রেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে কিয়েভও রুশ তেল শোধনাগারসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা থেকে বিরত থাকবে। তাঁর দাবি, আগের রাতে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালায়নি।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন যদি রাশিয়াকে সমঝোতা মেনে চলতে বাধ্য করতে পারে, তাহলে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ যুদ্ধের অবসানের দিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। কিয়েভ এখন প্রস্তাবিত সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত জানতে চাইছে।
এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সোমবার রুশ সামরিক ও শিল্প খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৫৬৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে জোটটি। তালিকায় রয়েছে ৮২৬টি কোম্পানি ও ৭৪৩ জন প্রধান নির্বাহী।
ইইউ জানিয়েছে, এটি তাদের এই নিষেধাজ্ঞা কাঠামোয় একবারে সবচেয়ে বড় সংযোজন। লক্ষ্যবস্তু করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান তৈরির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তালিকাভুক্তদের সম্পদ জব্দ এবং তাদের অর্থ বা অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে; ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইইউতে ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
মন্তব্য করুন