সায়মন খান | লিড নিউজ ২৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে তাঁকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া (এসআইআর) প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নির্ধারিত স্থানে প্রবেশে বাধা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, শনিবার সকালে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাসভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন মমতা। কিন্তু পুলিশ তাঁকে বাধা দিলে তিনি সেখানেই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মমতার হাতে থাকা একটি প্ল্যাকার্ডেও দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান জানানো হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে অবস্থান কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ উপস্থিত কয়েকজন নেতাকে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।
মমতার সঙ্গে আটক হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলে। তাঁদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আটকের পর পুলিশের গাড়িতে বসেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান জানান। এ সময় তাঁকে দেশাত্মবোধক গান গাইতেও দেখা যায়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অধিকার থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বাধা দিয়েছে পুলিশ। দলটির নেতা কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাসভবন থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। এমনকি সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতেও বাধা দেওয়া হয়েছে।
আটকের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ছাত্র ও তরুণদের আহ্বানে তাঁরা এই আন্দোলনে অংশ নিতে দিল্লিতে এসেছেন। কিন্তু আন্দোলনের নির্ধারিত স্থানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় বাসভবনের সামনেই অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এদিকে নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ও ছাত্রনেতাকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।
আটকদের মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকসহ কয়েকজন নেতা রয়েছেন। এ ছাড়া ছাত্রসংগঠনের নেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়।
ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, আটক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান রাজনৈতিক মতবিরোধের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকের ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিরোধী দলগুলোর একটি অংশ নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
এরই মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘ইন্ডিয়া’র পরবর্তী কর্মসূচি ও রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে আগামী ২ নভেম্বর একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। বৈঠকের দায়িত্ব পালন করবেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দিল্লিতে মমতাসহ বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আটক নেতাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা করা হয়েছে কি না কিংবা তাঁদের কখন মুক্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে শনিবার বিকেল পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন