নিউজ ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১২ জন

শাল্লায় এক পরিবারে তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে চরম কষ্টে জীবনযাপন করেছন পিতামাতা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় একই পরিবারে তিন প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন কাঠমিস্ত্রী স্বাধীন সূত্রধর। তার এক হাতে সংসারের বোঝা, অন্য হাতে তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের । অন্যের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন প্রতিবন্ধীদের বাবা স্বাধীন সূত্রধর। সেই সামান্য আয় দিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে চলে তার পাঁচ সদস্যের সংসার। সংসারে এত অভাব অনটন থাকার পরও তাদের মা শ্রীমতি সূত্রধরের তিন সন্তানের দেখাশোনা করতে গিয়ে ঘরের বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই তার। তিন সন্তানের দেখাশোনা,চিকিৎসা, পরিচর্যা ও দৈনন্দিন ঘরের প্রয়োজন কাজ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শ্রীমতি সূত্রধরকে। এর মধ্যে দুই সন্তান প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও ১৫ বছর বয়সী মেয়ে সৃষ্টি সূত্রধর এখনো ভাতা পাচ্ছে না। তবে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে জেলা ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। আপাতত তিনটি হুইলচেয়ার দেওয়া এবং সৃষ্টির ভাতা দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ।

ঘটনাটি হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার চাকুয়া গ্রামে।

পিতা স্বাধীন সূত্রধরের তিন প্রতিবন্ধী সন্তান হচ্ছেন সনজীব সূত্রধর (১৮), সৃষ্টি সূত্রধর (১৫) ও সমাপ্ত সূত্রধর (১২)। তারা তিনজনই জন্মসূএে প্রতিবন্ধী।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তিটি হচ্ছেন স্বাধীন সূত্রধর। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী হওয়ায় প্রতিদিন পরিবারের ৫ জন সদস্যর দুবেলা দুমুঠো খাবারের আশায় অন্যের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতে হয়। প্রতিদিন তার হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের যৎসামান্য যে টাকা আয় করেন, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে ৫ জনের পরিবারে টানাপোড়নের সংসার। কথায় আছে না যার নুন আনতে পানতা পুড়ায়,এরমধ্য আবার তিন সন্তানের চিকিৎসা ঔষধপএ তো আছেই।

সন্তানদের সার্বক্ষণিক দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্ত্রী শ্রীমতী সূত্রধরের পক্ষে বাইরে গিয়ে কাজ করা সম্ভব হয় না। ফলে সংসারের খরচ ও সন্তানদের প্রয়োজন মেটাতে প্রতিদিনই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে পরিবারটিকে।

এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধী তিন সন্তানের পিতা স্বাধীন সূত্রধর কান্নাজড়িত কন্ঠে সংবাদকর্মীদের জানান, আমার পরিবারে তিনটি সন্তান তাও প্রতিবন্ধী,তাদের ভরণপোষন আর অভাব অনটন আর টানাপোড়নের সংসারে আমার একার পক্ষে চলাই যেন দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে।তিনি সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আক্ষেপ করে আরো বলেন,আমার বড় ছেলেটি অন্তত সুস্থ থাকলে হয়তো এই বয়সে সংসারের হাল ধরতে পারত। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন তিন সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়াতে সংসার ও পরিবার পরিজনদের ভরণপোষন মিঠাতে আমার বিরামহীন ভাবে ছুটে চলা কর্মের সন্ধানে।

তিনি বলেন মানুষের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা যে পাই সেই টাকায় বর্তমান বাস্তবতায় সংসার চালানো খুবই কষ্টকর।
আমার সন্তানদের দেখাশোনা করেন আমার স্ত্রী। এদের রেখে আমার স্ত্রী কোনো কাজ ও করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, আমার বড় ছেলে ও ছোট মেয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা পায়, কিন্তু মেঝো মেয়েটা এখনো সরকারী ভাতা পায়নি। সরকারের সব পর্যায়ের সুযোগ সুবিধা পেলে খেয়ে পড়ে বাঁচার স্বপ্নঁ দেখেন কাঠমিস্ত্রী স্বাধীন সূত্রধর।

এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধী তিন সন্তানের মা শ্রীমতী সূত্রধর বলেন, আমার সারাদিন যায় এদের দেখাশোনা করায়। এদের বাথরুমে আনা নেয়া,গোসন করানো থেকে শুরু খাওয়া দাওয়া ইত্যাদি সারাদিন চলে যায়।এদের রেখে বাইরে গিয়ে সংসারের জন্য কোনো কাজ করতে পারি না। তিনি সরকারের কাছে তার তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুনীল চন্দ্র দাস জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইতিমধ্য সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে পরিবারের দুই সন্তানকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছেন এবং অপর সন্তান সৃষ্টির জন্যও আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে এমন কিছু দেওয়ার মতো সুযোগ সুবিধা নেই। তবে সমাজসেবা থেকে ভাতা পেতে পারে। তারপরও আমরা দেখব, কিছু করা যায় কিনা।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাস বলেন, আপাতত তিনটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্হা করার আশ্বাস দিয়ে বলেন সরকারের এই সমাজ সেবা মন্ত্রনালয় সমাজের এমন অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষজনের কল্যাণে কাজ করে থাকে। আমাদের এই সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে শাল্লায় একটি পরিবারে তিনটি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সবধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে হেপাটাইটিস বি সচেতনতায় স্বাস্থ্য সেমিনার, বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা

১

এনআইডি সংশোধনে ইসির বড় অগ্রগতি, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি

২

শাল্লায় এক পরিবারে তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে চরম কষ্টে জীবনযাপন করেছন পিতামাতা

৩

যশোরে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আইনজীবী সহকারী পরিচয়দানকারী মাসুদ ও লাবনী আটক

৪

মনোহরগঞ্জে, মরহুম রুহুল আমিন স্মৃতি মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

৫

নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজন গ্রেপ্তার।

৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ নারী পুরুষ গ্রেপ্তার

৭

সারের ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ! যশোরে জামায়াতের ৫ এমপির তোপ

৮

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন পুলিশ সুপারের

৯

১০

লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের দেড় কোটি পাউন্ডের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ

১১

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের তদন্তে জটিলতা, তিনবার চিঠি দিয়েও ডিভাইস পায়নি ডিবি

১২

তিন দশক কাজে ডুবে হারিয়েছেন পরিবারের সময়, বলতে গিয়ে কাঁদলেন আমির

১৩

মালয়েশিয়ায় সরকারি কর্মীদের ওয়েজ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, দেশব্যাপী সিদ্ধান্তের আগে যাচাই

১৪

সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি, দুই মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি চেয়ে ঢাকার তৎপরতা

১৫

যুবলীগ নেতা সন্দেহে আটক, জামায়াতের চাঁদার রসিদ দেখিয়ে তিন ঘণ্টায় মুক্তি

১৬

মালয়েশিয়ায় শিশুদের যৌন শোষণের ভয়াবহ চক্রের সন্ধান, মাসে আয় সাড়ে ৪ লাখ রিঙ্গিত

১৭

বাংলাদেশে ৭৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা জাপানের, নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

১৮

ওয়ানডে অভিষেকেই বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক, আইসিসির পরীক্ষার মুখে আলিস

১৯

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের পর নতুন উদ্বেগ, আরও ২০ প্রবাসীর সাজার তথ্য অজানা

২০