ডেস্ক রিপোর্ট, লিড নিউজ ২৪:
মাঝ আকাশে হঠাৎ ককপিটে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন কো-পাইলট। উদ্দেশ্য বিমানটিকে আছড়ে ফেলে শত শত যাত্রীকে হত্যার ভয়াবহ চক্রান্ত। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই চক্রান্ত রুখে দিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। গুরুতর আহত অবস্থায় নিজের রক্ত দিয়ে শত শত মানুষের জীবন বাঁচানো এই বীর পাইলটকে ‘হিরো’ আখ্যা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কী ঘটেছিল সেই ফ্লাইটে?
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইট দুবাই থেকে তেল আবিবের দিকে যাচ্ছিল। জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ-এর বরাত দিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান, মাঝ আকাশে হঠাৎ করেই ককপিটে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন কো-পাইলট। তার লক্ষ্য ছিল বিমানটিকে ধ্বংস করা। কিন্তু ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার তা হতে দেননি। নিজের প্রাণ বাজি রেখে তিনি কো-পাইলটকে বাধা দেন। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থাতেও অবিশ্বাস্য মানসিক শক্তির পরিচয় দেন তিনি। নিজের জীবন যখন যায় যায় অবস্থা, ঠিক তখনই কোনোমতে ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি। এরপরই বিমানের ক্রু এবং যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে আক্রমণকারী কো-পাইলটকে কাবু করে ফেলেন।
দেবদূতের মতো হাজির হলেন অন্য দুই পাইলট ও এক ডেন্টিস্ট
হামলাকারীকে কাবু করার পর বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন ফ্লাইদুবাইয়েরই অন্য দুই পাইলট, যারা ওই বিমানে যাত্রী হিসেবে ছিলেন। তারা অত্যন্ত দক্ষতায় সৌদি আরবের তাবুক শহরে বিমানটির জরুরি অবতরণ করান। অন্যদিকে, রক্তাক্ত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের সাহায্যে এগিয়ে আসেন বিমানে থাকা এক ডেন্টিস্ট (দন্তচিকিৎসক)। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই চিকিৎসকের প্রাথমিক চিকিৎসাতেই ক্যাপ্টেনের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় এবং তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
‘ভারত তোমার জন্য গর্বিত’: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
সৌদি আরবে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার বর্তমানে তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাচ্ছার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন।
এই বীরত্বপূর্ণ ঘটনার পর ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে ‘হিরো’ আখ্যা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, “চরম বিপদ এবং নিজে গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি অন্যের জীবন বাঁচাতে যে অসীম সাহস ও অবিচল সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন, তা অতুলনীয়। ভারত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে নিয়ে গর্বিত। আমি তার দ্রুত আরোগ্য, নবীন শক্তি এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।”
মন্তব্য করুন