ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর তরুণদের পরিচালিত পাঁচ সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘ প্রতিবাদ আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। পদত্যাগের এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে উদযাপনে মেতে উঠেছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী।কী নিয়ে এই আন্দোলন?
ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। সম্প্রতি ভারতের প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণদের নিয়ে একটি মন্তব্য করার পর তার প্রতিক্রিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্রচার হিসেবে গঠিত হয় ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। পরবর্তীতে এটি তরুণদের তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশের এক বড় মঞ্চে পরিণত হয়। ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারী সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখে পৌঁছায়।
সামাজিক কর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক আন্দোলনে যোগ দিয়ে আমরণ অনশন শুরু করলে এটি বৈশ্বিক নজর কাড়ে। এছাড়া ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দল, অ্যাক্টিভিস্ট এবং বহু তারকা আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
**শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও আন্দোলন স্থগিত**
সম্প্রতি পার্লামেন্ট অভিমুখে আন্দোলনকারীদের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পর ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই দেশের ঐক্য বজায় রাখা এবং তরুণদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিজেপি প্রধান অভিজিৎ ডিপকে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। ঐতিহাসিক এই অর্জনকে উদযাপনে যন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্লোগান, নাচ-গান ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।
মন্তব্য করুন