আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির ঘটনায় তরুণদের তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি) নামে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা একটি নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনের নজিরবিহীন চাপে নতিস্বীকার করে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, “দিল্লির জন্তর মন্তরসহ সারা দেশে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে কোনো দেশবিরোধী শক্তি যেন অস্থিতিশীলতা ছড়াতে না পারে—সেজন্যই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি। আমি দেশের তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায্য দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।”
ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বিগত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকলেও এই প্রথম জনগণের সরাসরি আন্দোলনের চাপে তাদের প্রভাবশালী কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য হতে হলো।
যেভাবে আন্দোলনের সূত্রপাত:
গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ‘নিট’ (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চয়তায় পড়ে। এর প্রতিবাদে এবং জালিয়াতির বিচার দাবিতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন এবং অনেক তরুণ অনশনে বসেন। শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে গঠন করেন আন্দোলনধর্মী প্ল্যাটফর্ম ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি)।
চলতি সপ্তাহে আন্দোলনটি দেশব্যাপী এক বিশাল গণজাগরণে রূপ নেয়। গত সোমবার দিল্লিতে হাজার হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে এলে পুলিশ সাশ্রু গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালিয়ে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করে, এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশের এই সহিংসতার পর ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায় এবং দিল্লির পাশাপাশি কলকাতা ও মুম্বাই সহ ভারতের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে লাখ লাখ শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আসেন।
শনিবার কেন্দ্রীয় বিজেপি মন্ত্রীদের সাথে সিজিপি নেতাদের আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের এই ঘোষণা আসে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর পৌঁছামাত্রই দিল্লির বিক্ষোভস্থলে হাজার হাজার তরুণ উল্লাসে ফেটে পড়েন। সিজিপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এই অর্জনকে “গণতন্ত্র ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নীতিগত জয়” বলে মন্তব্য করেছেন।
মন্তব্য করুন