এম এ কাদের অপু::
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের ছোট চাঁদপুর গ্রামে ৩ জন কোমলমতি শিশুকে যৌন নিপীড়নের মর্মান্তিক ও জঘন্য ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার পর গত ১৯ তারিখে লাকসাম থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে প্রধান অভিযুক্ত আসামি মকবুল।
পুলিশ বলছে আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের সব ধরনের চেষ্টা ও প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত অপরাধী প্রকাশ্যে না আসায় স্থানীয়দের অসন্তোষ ও ভীতি বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় পলাতক আসামি মকবুলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির এক দফা দাবিতে আগামীকাল এক বিশাল মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে ‘লাকসামের সচেতন নাগরিক সমাজ’।
উপজেলার চুনাতী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই প্রতিবাদী মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, অতি সম্প্রতি লাকসামের ছোট চাঁদপুর গ্রামে ৩ জন নিষ্পাপ শিশুকে যৌন নিপীড়নের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে গত ১৯ জুলাই লাকসাম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
তবে মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্ত মকবুল কৌশলে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। ঘটনার ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
মামলার তদন্ত ও আসামির বিষয়ে লাকসাম থানার এসআই নাজমুল জানান, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামি বারবার স্থান পরিবর্তন করায় তাকে গ্রেপ্তার করতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে নেই, আসামিকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে। খুব শীঘ্রই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশের আশ্বাসের পাশাপাশি অপরাধীকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে সোচ্চার হয়েছে লাকসামের সর্বস্তরের মানুষ। আগামীকাল চুনাতী ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় সচেতন জনতা, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, তরুণ সমাজ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেবেন।
মানববন্ধনের প্রধান দাবিগুলো হলো: অবিলম্বে গ্রেপ্তার, ১৯ তারিখে মামলা হওয়ার পরও আত্মগোপনে থাকা আসামি মকবুলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পরবর্তীতে কেউ এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়।
ওই এলাকায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি বাড়াতে হবে।
লাকসামের সচেতন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ জানান, আমাদের শিশুদের ওপর এই পাশবিক অত্যাচার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার কথা বললেও এতদিনেও আসামি ধরা না পড়া চিন্তার বিষয়। আমরা চাই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিক, আর সেই দাবি জানাতেই আমরা রাজপথে নামছি।
আগামীকালের এই প্রতিবাদী মানববন্ধনে দল-মত নির্বিশেষে লাকসামের সকল স্তরের সর্বসাধারণকে উপস্থিত হয়ে শিশুদের সুরক্ষায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন