দিনাজপুর হাবিপ্রবি’তে ১৪১ কোটি ৪১ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্প ‘অমর একুশে’ ছাত্র হল নির্মাণ কাজ শুরু করার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. খাদেমুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য বাসস’কে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছর হাবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নমূলক কাজে সরকারিভাবে প্রায় ৬শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বরাদ্দকৃত অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা নিরসনে মেগা প্রকল্প গ্রহণে ১২ তলা বিশিষ্ট দু’টি হল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলনে শহীদের স্মরণে ‘অমর একুশে’ একটি ছাত্র হল নির্মাণ কাজ শুরু করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
সূত্র জানায়, খুব শিগগির দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে ‘অমর একুশে’ নামে ১২ তলা বিশিষ্ট ছাত্র হল নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. এনামুল্যাহ জানান, ১৯৫২ সালে মহান বাংলা ভাষা আন্দোলনে এ দেশের কৃতী সন্তান, শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলা রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ ও স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১২ তলা বিশিষ্ট ‘অমর একুশে’ নামে একটি ছাত্র হল নির্মাণ করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। আমরা হাবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মহান বাংলা ভাষা আন্দোলন শহীদের স্মৃতি সংরক্ষণে একটি ১২ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ছাত্র হল নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ছাত্র হলটির নির্মাণ কাজ খুব শিগগির শুরু হতে যাচ্ছে। ছাত্র হলটি নির্মিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা অনেকটা নিরসন হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
হাবিপ্রবি প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. এনামুল হক জানান, হাবিপ্রবি’তে এই প্রথম দু’টি ১২ তলা বিশিষ্ট মেগা প্রকল্প গ্রহণে সাবেক প্রধান মন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া নামে ছাত্রী হল এবং বাংলা ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ‘অমর একুশে’ নামে ছাত্র হল নির্মাণ হতে যাচ্ছে। ১২ তলা পর্যন্ত ৩২৩টি আবাসন কক্ষ থাকবে। প্রত্যেকটি কক্ষে ৪ জন করে ছাত্র থাকার ব্যবস্থা রাখা হবে। নির্মিত হলে সর্বমোট এক হাজার ২৯২ জন ছাত্রের আবাসন ব্যবস্থা হবে।
তিনি বলেন, এছাড়া এই ছাত্র হলে অবস্থানরত ছাত্রদের পড়াশোনার সুবিধার্থে সকল ধরনের ব্যবস্থা থাকবে। এর মধ্যে হল সুপার ও সহকারী হল সুপার কক্ষ, হলের অফিস কক্ষ, কমন রুম, নামাজের ঘর, ডাইনিং কক্ষ, ডাইনিং ও রান্নার কক্ষ, অতিথি কক্ষ, একাধিক ওয়াশরুম, লন্ড্রি ও স্টেশনারি কক্ষ, ৫৫টি সিঁড়ি, প্রত্যেক ফ্লোরে ৬টি টয়লেট ও ৪টি গোসলখানা, ১০টি জেনারেটর কক্ষ, ২৪টি লিফ্ট, ৩২টি সিকিউরিটি গার্ডের কক্ষ সংযুক্ত থাকবে বলে নিশ্চিত করেন।
মন্তব্য করুন