রিমন হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃরাজধানীর বনানীতে অবস্থিত এক রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রবাসী ভুক্তভোগীরা বিএমইটিতে অভিযোগ দিলেও পাচ্ছেনা সঠিক বিচার। সরকারি নির্দেশনা তোয়াক্কা করছে অভিযোক্ত নর্থ ওয়েস্ট ওভারসীজ রিক্রুটিং এজেন্সি।
বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজের ভিসায় গমন করছে প্রবাসীরা। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের উন্নয়নে ভুমিকা পালন করছে। তবে, সেই প্রবাসীরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার স্বীকার। দেশে অবস্থিত বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যস্থতায় প্রবাসীদের পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। তবে বেশিরভাগ প্রবাসীরা প্রতারিত হচ্ছে, কথা কাজে মিল পাচ্ছেনা। কাজ না পেয়ে এবং অবৈধ অবস্থায় অবস্থান করে অবশেষে দেশে ফেরত আসতে হচ্ছে ভুক্তভোগী প্রবাসীদের।
তেমনি এক রিক্রুটিং এজেন্সির নাম নর্থ ওয়েস্ট ওভারসীজ (আরএল-২৬৯২) প্রতিনিয়ত বিদেশে লোক পাঠানোর নামে তারা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে প্রবাসে কাজ এবং বৈধ কোন কাজপত্র দিচ্ছেনা।
সৌদি আরব প্রবাসী ভুক্তভোগী অনেকেই বিএমইটি ভবনে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও কোন সুবিচার পাচ্ছেনা। উল্টো সরকারি নির্দেশনা অমান্য করছে অভিযোক্ত রিক্রুটিং এজেন্সি।
একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং প্রবাসী মন্ত্রণালয় বরাবর অভিযোগপত্র দাখিলের পর নিজ জেলা অফিস থেকে অভিযোগ নিশ্পত্তির জন্য সরকারি কর্মকর্তা ক্ষতিপুরন ধার্য করলেও পরবর্তীতে অভিযোক্ত সেই এজেন্সি তা দিচ্ছেনা। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময় পাড় করছে। আরও কয়েকজন অভিযোগকারী অভিযোগ করে বলেন তাদের জেলা অফিস থেকে কল দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর তাদের অভিভাবকদের ডাকা হয়নি, জোগাজোগের চেষ্টা করলে জনশক্তি কর্মসংস্থান জেলা অফিসের কোন কার্যক্রম লক্ষ্য করছেনা। তদন্তে জানা গিয়েছে অভিযোক্ত এজেন্সি এবং মানিকগঞ্জ ওয়ারসীজ (আরএল-১৪৯৮) নয়ন ওভারসীজ (আরএল-১৮৬৬) সহ কয়েকটি এজেন্সি মিলে এই চক্র প্রবাসীদের থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযোক্ত নর্থ ওয়েস্ট ওভারসীজের এমডি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তারা অন্য এজেন্সি থেকে ভিসা কিনেছিল তাদেরকে এ বিষয়ে অবহিত করেছে। এবং ভুক্তভোগী অভিযোগকারী প্রবাসীদের অভিযোগ স্বীকার করে তিনি বলেন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য তারা চেষ্টা করছে।
জনশক্তি কর্মসংস্থান জেলা অফিসে এক অভিযোগ নিস্পত্তি প্রসঙ্গে জোগাজোগ করা হলে জানানো হয় ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হলেও রিক্রুটিং এজেন্সি তা দিচ্ছেনা, এখন তারা বিএমইটি অফিসে রিপোর্ট পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসীরা জানান, আমরা সরকারি প্রসেসে অভিযোগ দায়ের করেও সুবিচার পাচ্ছিনা সৌদি আরবে অবৈধ অবস্থান করছি, যেকোন সময় পুলিশ গ্রেফতার করে দেশে পাঠিয়ে দিবে। তাই আমরা চাচ্ছি আমাদেরকে বৈধ হওয়ার খরচ রিক্রুটিং এজেন্সি থেকে আদায় করে দেওয়া হোক। প্রশাসনের সদয় কামনা করছি।
মন্তব্য করুন