ডেক্স নিউজঃ
প্রেমের অধিকার ও স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে অনশনের পর অবশেষে থানা পুলিশের খাঁচায় বন্দি হয়েছেন অভিযুক্ত যুবক। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পাতবিলা গ্রামে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে। প্রতারণার শিকার ফারজানা আক্তার (২২) নামের এক তরুণীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আজ (২ জুলাই) অভিযুক্ত প্রবাসী ঈমন খাঁন (২৫)-কে গ্রেফতার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। ঈমন খাঁন স্থানীয় জামায়াত নেতা ইয়াকুব আলীর একমাত্র ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাতবিলা গ্রামের জামায়াত নেতা ইয়াকুব আলীর ছেলে সৌদি প্রবাসী ঈমন খাঁনের সাথে ফারজানা আক্তারের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তাদের বিয়ে হলেও ঈমন ও তার পরিবার বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করে এবং ফারজানাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কোনো উপায় না দেখে গত কয়েকদিন আগে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে সরাসরি শ্বশুর ইয়াকুব আলীর বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন ফারজানা।
একজন গৃহবধূ মর্যাদার দাবিতে অনশন করছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার উৎসুক জনতা জামায়াত নেতার বাড়িতে ভিড় জমায়। একপর্যায়ে ঘটনার সত্যতা ও মেয়েটির অসহায়ত্ব দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামের সাধারণ মানুষ। গ্রামবাসীর তীব্র তোপের মুখে পড়েন জামায়াত নেতা ইয়াকুব আলী। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং গণধোলাই বা সামাজিক শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি একটি সমঝোতার পথ খোঁজেন।
উপস্থিত জনতার সামনে ইয়াকুব আলী ওই তরুণীকে নিজের পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দেন। তিনি কথা দেন:
”আগামী তিন দিনের ভেতরে মেয়ের পরিবারের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলে ফারজানাকে আমার বেটার (ছেলে) বউ করে ঘরে তুলে নেবো।”
শ্বশুরের এমন প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় আশ্বস্ত হয়ে অনশন ভঙ্গ করে নিজের বাপের বাড়ি ফিরে যান ফারজানা।
তবে তিন দিন পার হয়ে গেলেও জামায়াত নেতা ইয়াকুব আলী কিংবা তার ছেলে ঈমন খাঁন কোনো যোগাযোগ করেননি। উল্টো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শ্বশুরবাড়ির পক্ষের এমন প্রতারণা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পর আর চুপ থাকেননি ফারজানা। তিনি নিজের অধিকার আদায়ে সরাসরি আইনের আশ্রয় নেন এবং কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ফারজানার লিখিত অভিযোগের পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রাথমিক তদন্ত শেষে আজ (২ জুলাই) কালীগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত যুবরাজ ওরফে ঈমন খাঁনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনের চোখে সবাই সমান, অপরাধের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এদিকে জামায়াত নেতার ছেলের এমন কাণ্ড এবং পরবর্তীতে গ্রেফতারের ঘটনায় পুরো পাতবিলা গ্রামসহ কালীগঞ্জ উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রবাসীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন
মন্তব্য করুন