জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় মায়ের দেওয়া কিডনি এবং জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সম্পূর্ণ আর্থিক ও মানসিক সহায়তায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন কৃষ্ণ হাজং (৩৪) নামে এক যুবক।
নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার পর পুনর্জন্মের নেপথ্যের নায়কদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কৃষ্ণের পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সদ্য সুস্থ হয়ে ওঠা কৃষ্ণ হাজং, তার মা চারুবালা হাজং (৫৮) এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
সম্প্রতি ঢাকার পিজি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কৃষ্ণ হাজং বলেন, আমাদের এতো সামর্থ্য ছিল না যে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাবো। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্যারের আর্থিক সাহায্য, সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং মায়ের দেওয়া কিডনির কারণে আমি আজ নতুন জীবন পেয়েছি। স্যারের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
কৃষ্ণের মা চারুবালা হাজং কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্যার (ব্যারিস্টার কায়সার কামাল) যদি আমাদের পাশে এসে না দাঁড়াতেন, তবে আমি আমার ছেলেকে কোনোভাবেই বাঁচাতে পারতাম না। চিকিৎসার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব খরচ উনি দিয়েছেন। উনাকে দেওয়ার মতো আমার কাছে কিছু নেই, শুধু দুই হাত তুলে আজীবন উনার জন্য আশীর্বাদ আর দোয়া করি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বিজয়পুর এলাকার শচীন্দ্র হাজংয়ের ছেলে কৃষ্ণ হাজং ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাবা, মা, স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে ছিল তার অভাবের সংসার। হঠাৎ করেই এক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কৃষ্ণের দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ অকেজো ধরা পড়ে।
প্রথমে ময়মনসিংহ এবং পরে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে পরিবারটি একপর্যায়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়ে। অর্থাভাবে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে না পেরে গত বছরের মে মাসের শেষদিকে একপ্রকার মৃত্যুর প্রহর গুনতে গুনতে বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।
পরবর্তীতে অসহায় কৃষ্ণের নিভু নিভু জীবনের করুণ গল্প জানতে পেরে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে নিজ উদ্যোগে তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে গত বছরের ১৮ জুন থেকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে কৃষ্ণের নতুন করে ডায়ালাইসিস ও চিকিৎসা শুরু হয়।
চিকিৎসকরা জানান, কৃষ্ণকে বাঁচাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। সন্তানের এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে না পেরে নিজের জীবনের ঝুঁকি তুচ্ছ করে কিডনি দানের সিদ্ধান্ত নেন মা চারুবালা হাজং। টানা আট মাসব্যাপী বিভিন্ন জটিল চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চলতি বছরের ২ মার্চ পিজি হাসপাতালে কৃষ্ণের শরীরে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ এই জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রক্রিয়ার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন ও সার্বক্ষণিক তদারকি করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মন্তব্য করুন