স্পোর্টস ডেস্ক | লিড নিউজ ২৪|
হারলেই ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ থেকে বিদায়। এমন বাঁচা-মরার ম্যাচে যেখানে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার কথা, সেখানে শুরুতেই চরম হতাশার জন্ম দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৬ রান তুলতেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়েছে টাইগাররা। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বাংলাদেশের এমন ব্যাটিং শুরুতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে দলের ব্যাটিং সামর্থ্য ও চাপ সামলানোর মানসিকতা নিয়ে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শেষ লিগ ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই সেই সিদ্ধান্তকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দেন বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটাররা।
বাংলাদেশের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হানেন আফগান পেসার ইয়ামিন আহমেদজাই। তাঁর বলে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ৬ বল মোকাবিলা করেও দলের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি এই বাঁহাতি ব্যাটার।
পরের বলেই বাংলাদেশের বিপর্যয় আরও গভীর করেন ইয়ামিন। ক্রিজে এসেই প্রথম বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান অভিজ্ঞ ব্যাটার সৌম্য সরকার। গোল্ডেন ডাকের শিকার হয়ে দলের চাপ আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। পরপর দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬ রানেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর বাংলাদেশের সামনে আজকের ম্যাচটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সুযোগ। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও ব্যাটিংয়ের শুরুতে একই রকম হতাশাজনক চিত্র দেখা গেল। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠতেই পারে, যখন একটি ম্যাচের ওপর পুরো টুর্নামেন্টে টিকে থাকা নির্ভর করছে, তখন কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন জাতীয় দলের ব্যাটাররা?
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। অথচ সেই ম্যাচে ওপেনিং জুটিতে ৪৭ রান তুলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ব্যাটাররা। কিন্তু এরপর একের পর এক উইকেট হারিয়ে বড় পরাজয় বরণ করতে হয় টাইগারদের।
অন্যদিকে আফগানিস্তান নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছে। ফলে এই ম্যাচের আগে থেকেই চাপে ছিল তাওহীদ হৃদয়ের দল।
শুধু জয় নয়, প্রয়োজন বড় ব্যবধানের জয়
টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুধু জিতলেই চলবে না বাংলাদেশকে। নেট রানরেটের কঠিন সমীকরণ মেলাতে প্রথমে ব্যাট করে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে জিততে হবে টাইগারদের।
জিম্বাবুয়ে ইতিমধ্যে দুই ম্যাচ খেলে একটি জয় ও একটি পরাজয় নিয়ে ২ পয়েন্ট অর্জন করেছে। আফগানিস্তানের ঝুলিতেও রয়েছে ২ পয়েন্ট। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ।
এমন পরিস্থিতিতে প্রথমে ব্যাট করে বড় সংগ্রহ গড়াটা ছিল বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মাত্র ৬ রানে দুই ব্যাটারকে হারিয়ে সেই পরিকল্পনাতেই বড় ধাক্কা লেগেছে। এখন বাকি ব্যাটারদের ওপর নির্ভর করছে দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
চাপের ম্যাচে কেন বারবার ব্যর্থতা?
বাংলাদেশের ক্রিকেটে টপ অর্ডারের ধারাবাহিকতার অভাব নতুন কোনো সমস্যা নয়। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দ্রুত উইকেট হারানো, চাপের মুখে বড় জুটি গড়তে না পারা এবং ভালো শুরু ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়গুলো বারবার সামনে আসছে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেও সেই সমস্যারই পুনরাবৃত্তি দেখা গেল। বিশেষ করে অভিজ্ঞ সৌম্য সরকারের প্রথম বলেই আউট হওয়া দলের জন্য বড় ধাক্কা। এমন ম্যাচে তাঁর কাছ থেকে দায়িত্বশীল ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল।
বাংলাদেশের একাদশে এদিন তিনটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফিরেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও পারভেজ হোসেন ইমন। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছে স্পিনার আলিস আল ইসলামের। তবে একাদশে পরিবর্তন এনেও ব্যাটিংয়ের শুরুতে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা পায়নি দল।
এখন বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। শুরুতে দুই উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে বড় সংগ্রহ গড়তে হবে। পাশাপাশি আফগানিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে বড় ব্যবধানে হারানোর মতো বোলিং পারফরম্যান্সও প্রয়োজন।
মাত্র দুটি উইকেট হারানোয় ম্যাচ শেষ হয়ে যায়নি। কিন্তু টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে শুরুতেই এমন বিপর্যয় বাংলাদেশকে নিঃসন্দেহে কঠিন অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।
প্রশ্ন এখন একটাই—বাঁচা-মরার এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারবেন তো হৃদয়-শান্তরা, নাকি আরও একটি হতাশাজনক ব্যাটিং পারফরম্যান্সে শেষ হয়ে যাবে বাংলাদেশের ফাইনালের স্বপ্ন?
লাইভ স্কোরের প্রাথমিক চিত্র (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত): বাংলাদেশ ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়েছে। আউট হয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার।
মন্তব্য করুন