স্পোর্টস ডেস্ক | লিড নিউজ ২৪|
ব্যাট হাতে দুর্দান্ত অর্ধশতক, এরপর বল হাতে ছয় উইকেট। পাকিস্তানের তরুণ অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাসের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডকে ৮৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচে মাত্র ২১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার একাই বদলে দিয়েছেন ম্যাচের গতিপথ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০২ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জবাবে ৩৮ দশমিক ৪ ওভারে ২১৫ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস। ব্যাট হাতে ৫৯ রান করার পর বোলিংয়ে মাত্র ৪০ রান খরচায় ৬ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন মিনহাস।
ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে পাকিস্তানকে উদ্ধার
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। ম্যাচের প্রথম বলেই ফখর জামান আউট হলে বিপর্যয়ের শুরু। এরপর সাইম আইয়ুব, বাবর আজম ও সালমান আলী আগার দ্রুত বিদায়ে মাত্র ৮১ রানেই ৪ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
একপর্যায়ে ১৩৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে সেখান থেকেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাস।
দুজনের ৭৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে হাসান নওয়াজ করেন ৭৯ রান। অন্যদিকে চাপের মুখে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি হাঁকান মিনহাস।
মাত্র ৫৮ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। শেষ দিকে ফাহিম আশরাফের ৩৯ রানের কার্যকর ইনিংসে তিন শ রানের মাইলফলক অতিক্রম করে পাকিস্তান।
ইংল্যান্ডের হয়ে সনি বেকার ৬৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।
দুর্দান্ত শুরুর পর ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ধস
৩০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল দারুণ। দুই ওপেনার টম ব্যান্টন ও বেন ডাকেট পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৯১ রান।
বেন ডাকেট ৪৫ রান করে হারিস রউফের বলে বিদায় নেওয়ার পরও ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন আরাফাত মিনহাস।
৫৭ রান করা টম ব্যান্টনকে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে প্রথম বড় আঘাত হানেন তিনি। এরপর অসাধারণ একটি ডেলিভারিতে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে বোল্ড করে প্রতিপক্ষকে আরও চাপে ফেলে দেন।
জো রুট ও স্যাম কারান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নাসিম শাহের বলে বোল্ড হন রুট। অন্যদিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ইংল্যান্ড।
শেষ পাঁচ উইকেটে মাত্র ৩৮ রান যোগ করতে পারে সফরকারীরা। মিনহাসের বাঁহাতি স্পিনের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ৪০ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন তিনি।
শহীদ আফ্রিদি ও আবদুর রাজ্জাকের পাশে মিনহাস
অসাধারণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছেন মিনহাস। ওয়ানডে ক্রিকেটে একই ম্যাচে অর্ধশতক ও পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া পাকিস্তানের তৃতীয় পুরুষ ক্রিকেটার তিনি।
এর আগে পাকিস্তানের হয়ে এমন কীর্তি গড়েছিলেন শহীদ আফ্রিদি ও আবদুর রাজ্জাক। মাত্র পঞ্চম ওয়ানডে খেলতে নেমেই তাঁদের পাশে নাম লিখিয়েছেন মিনহাস।
পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে একই ম্যাচে অর্ধশতক ও পাঁচ উইকেটের কীর্তি এটি ২৫তম ঘটনা। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানও রয়েছেন এই বিশেষ কীর্তি গড়া ক্রিকেটারদের তালিকায়।
ম্যাচ শেষে মিনহাসের প্রশংসা করেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। তরুণ এই অলরাউন্ডারকে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিভা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
টানা দুই জয়ে শক্ত অবস্থানে পাকিস্তান
ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে এটি পাকিস্তানের টানা দ্বিতীয় জয়। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারানোর পর এবার ইংল্যান্ডকে ৮৭ রানে পরাজিত করল স্বাগতিকরা।
আগামী ২২ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ২৫ অক্টোবর লাহোরে আবারও মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপের আগে তরুণ ক্রিকেটারদের পরখ করার এই সিরিজে মিনহাসের এমন পারফরম্যান্স পাকিস্তান দলের জন্য বড় প্রাপ্তি। ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ৩০২/৯ (৫০ ওভার)
ইংল্যান্ড: ২১৫ (৩৮.৪ ওভার)
ফলাফল: পাকিস্তান ৮৭ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: আরাফাত মিনহাস (৫৯ রান ও ৬ উইকেট)।
মন্তব্য করুন