স্পোর্টস ডেস্ক | লিড নিউজ ২৪
জয়ের সম্ভাবনা নিয়েই আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের শেষ দিনে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের সামনে ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য, হাতে ছিল মাত্র সাত উইকেট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বোলারদের ব্যর্থতা আর আফগান ব্যাটারদের অসাধারণ ধৈর্যের কারণে জয় তুলে নিতে পারেনি টাইগাররা। আবুধাবিতে পাঁচ দিনের লড়াই শেষে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের শেষ দিনে ১৪২ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তোলে আফগানিস্তান। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান থেকে অনেক দূরে থাকলেও শেষ দুটি উইকেট অক্ষত রেখে ম্যাচ বাঁচিয়ে দেয় আফগানরা। বাংলাদেশের নিশ্চিত জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান ওপেনার সেদিকউল্লাহ আতাল। দুর্দান্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।
পঞ্চম দিনের শুরুতে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৩২ রান। জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল আরও সাত উইকেট। তবে দিনের প্রথম সেশন থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন আতাল। সতর্ক ব্যাটিংয়ে একের পর এক ওভার পার করতে থাকেন তিনি। ইকরাম আলীখিলের সঙ্গে গড়ে তোলেন ৬৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
ইকরামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার ইবাদত হোসেন। ৩৩ রান করা এই ব্যাটার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর ইসমত আলম ও হাশমতউল্লাহ শহীদিকে ফিরিয়ে ম্যাচে আবারও বাংলাদেশের সম্ভাবনা তৈরি করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। শহীদি ৩৬ রান করে আউট হন।
তবে অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন আতাল। বাংলাদেশের বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে ২৭৭ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৩৩২ বলে ১১১ রান করে তাইজুল ইসলামের বলে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা। আতালের বিদায়ের পর আফগানিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৮১ রান। তখনো বাংলাদেশের জয়ের সুযোগ ছিল।
কিন্তু শেষ দিকে বাংলাদেশের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান ইয়ামিন আহমেদজাই ও কায়েস আহমেদ। ইয়ামিন ৮৫ বল খেলে ১৯ রান করে মিরাজের শিকার হলেও কায়েস দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান। বাংলাদেশের ফিল্ডারদের কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়াও ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলে।
শেষ পর্যন্ত ৮০ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন কায়েস আহমেদ। তাঁকে সঙ্গ দেওয়া জিয়া-উর-রহমান ১২ বল মোকাবিলা করে কোনো রান না করলেও শেষ উইকেটটি হারাতে দেননি। ফলে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান নিয়ে দিনের খেলা শেষ করে আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ইবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি করে উইকেট নেন। একটি করে উইকেট পান হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম। তবে প্রয়োজনীয় সময়ে শেষ দুটি উইকেট তুলে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় জয়ের অপেক্ষা আর শেষ হয়নি।
এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেন তানজিদ হাসান। ওপেনার সাদমান ইসলাম করেন ৬৭ রান।
জবাবে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস থামে ২৪০ রানে। বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ দুর্দান্ত বোলিংয়ে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট শিকার করেন। চার উইকেট নেন ইবাদত হোসেন। আফগানদের হয়ে অপরাজিত ১০৫ রান করেন রহমত শাহ। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করে টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮২ এবং মুশফিকুর রহিমের ৮১ রানের পর সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন দাস। ১১৭ বলে ১৪টি চারে ১০২ রান করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। মিরাজ অপরাজিত থাকেন ৫২ রানে। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য।
এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন লিটন। দুই ইনিংসে ৫৩ ও ১০২ রান করার পাশাপাশি উইকেটকিপার হিসেবে মোট ৯টি ডিসমিসালে অবদান রাখেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে একই ম্যাচে এমন ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং পারফরম্যান্সের নজির আগে ছিল না।
ব্যাটিংয়ে লিটনের সেঞ্চুরি, হাসান মাহমুদের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক এবং ইবাদত-মিরাজের কার্যকর বোলিংয়ে ম্যাচের বড় সময়জুড়েই এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পঞ্চম দিনের দীর্ঘ সময় আফগান ব্যাটারদের প্রতিরোধ ভাঙতে না পারা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত জয় অধরাই থেকে যায়।
আবুধাবির এই টেস্ট তাই বাংলাদেশের জন্য একদিকে ব্যক্তিগত অর্জনের স্মরণীয় ম্যাচ, অন্যদিকে সম্ভাবনাময় অবস্থান থেকেও জয় হাতছাড়া হওয়ার হতাশার অধ্যায় হয়ে রইল।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ — প্রথম ইনিংস ৩৪৬
আফগানিস্তান — প্রথম ইনিংস ২৪০
বাংলাদেশ — দ্বিতীয় ইনিংস ৩৭২/৭ (ঘোষণা)
আফগানিস্তান — দ্বিতীয় ইনিংস ৩৪৬/৮
ফলাফল
ম্যাচ ড্র
মন্তব্য করুন