নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ৩ অক্টোবর
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক তিনটি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭৮১ দশমিক ৩ গ্রাম (প্রায় ৬৭ ভরি) স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও সিগারেটসহ চোরাচালান চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিমানবন্দর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০টি মোবাইল ফোন, ২টি ল্যাপটপ ও ৩ কার্টন সিগারেট।
এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিমানবন্দরের গোলচত্বর ও ক্যানোপি এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়। প্রথম অভিযানে গোলচত্বরের উত্তর পাশ থেকে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে পাঁচজনকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন— তোফাজ্জল হোসেন (৩৭), জসিম উদ্দিন (৩৯), আরাফাত হোসাইন (২৮), আরিফ (৪২) এবং মো. আলামিন গাজী (৩৭)। তাদের তল্লাশি করে ৪৮৪ দশমিক ২ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ২টি ল্যাপটপ, ৮টি মোবাইল ফোন এবং ৩ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযানে ২ নম্বর ক্যানোপি সংলগ্ন পাকা সড়ক থেকে সন্দেহজনক ঘোরাফেরার সময় রূপবান বেগম (৩৯) নামের এক নারীকে আটক করা হয়। পরে তার শরীর তল্লাশি করে ৯৮ দশমিক ৭ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও ১টি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়।
একই দিন তৃতীয় অভিযানে বিমানবন্দরের মূল প্রবেশপথের গোলচত্বরের পশ্চিম পাশ থেকে এম. এ. মতিন (৩০) নামের আরেক ব্যক্তিকে ১৯৮ দশমিক ৪ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও ১টি মোবাইল ফোনসহ আটক করে এপিবিএন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরের স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের ‘রিসিভার’ হিসেবে কাজ করে আসছেন। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসব স্বর্ণালংকার অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল।
এ ঘটনায় শনিবার (৩ অক্টোবর) আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(১)(বি)/২৫-ডি ধারায় পৃথক তিনটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার (অপারেশন্স) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, “বিমানবন্দর এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ ও অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বরাবরের মতোই সক্রিয় রয়েছে। স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানসহ যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
মন্তব্য করুন