নিজস্ব প্রতিবেদক | লিড নিউজ ২৪
ঢাকা: রাজধানীর গুলশানে বন্ড-সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত মদ অবৈধভাবে গুদামে মজুত রাখার অভিযোগে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন একটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করে দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসির নেতৃত্বে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল গুলশানের ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের ওই বন্ডেড ওয়্যারহাউসে সাঁড়াশি অভিযান চালায়।
কাগজে-কলমে এক, বাস্তবে আরেক
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সফটওয়্যার এবং গুদামে সংরক্ষিত পণ্যের সরেজমিন তথ্যের মধ্যে ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায়। কাস্টমসের নথিপত্র ও সফটওয়্যারে বেশ কিছু পণ্য ‘এক্স বন্ড’ (প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড় করা) দেখানো হলেও, তল্লাশি চালিয়ে গুদামের ভেতর থেকে ১৪৪ ক্যান বিয়ার, ১২ বোতল দামি হুইস্কি এবং ৬ বোতল নেমিরফ (ভদকা) মজুত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অর্থাৎ, কাগজপত্রে পণ্যগুলো বিক্রি বা ছাড় দেখানো হলেও বাস্তবে সেগুলো অবৈধভাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল।
উধাও বিপুল পরিমাণ বিয়ার, নেই ফ্লোরের অনুমোদন
শুধু অবৈধ মজুতই নয়, গরমিল মিলেছে আমদানি করা পণ্যের হিসাবেও। গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার সিস্টেমে ‘ইন-বাউন্ড’ হিসেবে ২ হাজার ২৫০ কার্টন হাইনেকেন বিয়ার অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়। কিন্তু যৌথ অভিযানের সময় সরেজমিনে যাচাই করে ওয়্যারহাউসে ওই বিপুল পরিমাণ বিয়ারের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া চারতলা বিশিষ্ট ওই ওয়্যারহাউসটির দুটি তলা সম্পূর্ণ কাস্টমসের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল বলেও ডিএনসি নিশ্চিত করেছে।
চলছে আইনি ব্যবস্থা
এ বিষয়ে ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, ওয়্যারহাউসটির মালিক শেখ নুর ইসলাম। দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবেই বৃহস্পতিবার রাতে এই অভিযানটি চালানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে নথিপত্রের সঙ্গে বাস্তব মজুতের অসংগতি ও গুরুতর অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির ওয়্যারহাউস সিলগালা করে দেয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
মন্তব্য করুন