উপশিরোনাম: কর্মী নিয়োগে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ৩৩৮ এজেন্সি, তবে আবেদন ও অভিবাসন ব্যয়ের বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়।
সায়মন খান | লিড নিউজ ২৪:
ঢাকা, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। নতুন ব্যবস্থায় দেশটিতে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে মালয়েশিয়া। কর্মী পাঠানোর কার্যক্রমে অংশ নিতে সুযোগ পাচ্ছে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৩৩৮টি এজেন্সি।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সেবা প্রদানকারী এজেন্সি এবং আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ।
নতুন ব্যবস্থায় তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সরাসরি মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। তারা নিজেদের উদ্যোগে চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ, উপযুক্ত কর্মী নির্বাচন এবং নিয়োগের প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
তবে কর্মীদের কলিং ভিসা, ই-ভিসাসহ মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বোয়েসেল ও অনুমোদিত ২৫টি সেবা প্রদানকারী এজেন্সির সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের আওতায় জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র সংগ্রহের কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মীর সুযোগ
সরকারের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়া।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ের চাপ থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মী মুক্তি পাবেন। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও দক্ষ কর্মীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
তবে বিনা খরচের এই সুবিধা সব আবেদনকারী বা সব নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। প্রথম পর্যায়ের ১০ হাজার কর্মী নির্বাচনের নির্দিষ্ট যোগ্যতা, আবেদনপদ্ধতি এবং দেশটিতে যাওয়ার সময়সূচি এখনো বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন ব্যবস্থা
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আরও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যমান অনুমোদিত তালিকা থেকে অনিয়মের অভিযোগে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ দিয়ে অন্য কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি যৌথ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে মেডিকেল সেন্টারগুলো পরিদর্শন করবে। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এ ক্ষেত্রে কোনো একটি মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্ব না দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার।
পুরোনো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোই বড় চ্যালেঞ্জ
মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। তবে অতীতে কর্মী নিয়োগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ওঠে।
এসব অনিয়মের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের মে মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী প্রবেশ বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। এর ফলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ছাড়পত্র থাকার পরও হাজার হাজার কর্মী দেশটিতে যেতে পারেননি।
এবার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিয়োগব্যবস্থায় ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং সাধারণ কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শুধু এজেন্সির সংখ্যা বাড়ালেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে না। কর্মী নির্বাচনের মানদণ্ড প্রকাশ, নির্ধারিত ব্যয় কার্যকর করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করাও জরুরি।
কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহীদের অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগের চূড়ান্ত শর্ত, চাকরির চাহিদাপত্র ও প্রযোজ্য ব্যয় সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ প্রদান ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সরকারের নতুন উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তবে এই সুযোগের সুফল সাধারণ কর্মীদের কাছে কতটা পৌঁছাবে, তা নির্ভর করবে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর।
মন্তব্য করুন