মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ৯১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৪৯ জন রোগীর মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ২৪ জন এবং গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন। তবে প্রতিবেদনে নতুন রোগীর লিঙ্গভিত্তিক তথ্যের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি রয়েছে—২৪ জনের হিসাবে পুরুষ ২২ ও নারী ২১ উল্লেখ করা হয়েছে, যা মোট সংখ্যার চেয়ে বেশি। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যাচাইযোগ্য। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ৯১ জন রোগীর মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬২ জন। এছাড়া গোমস্তাপুরে ১৬ জন, ভোলাহাটে ৫ জন, শিবগঞ্জে ৫ জন এবং নাচোলে ৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট ২ হাজার ২৩৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬৪ জন রোগী। উন্নত চিকিৎসার জন্য আরও ৬ জন রোগীকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো। বাড়ির আশপাশে, ছাদে, বারান্দায়, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর অবস্থা খারাপ হচ্ছে কি না, তা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সিভিল সার্জন আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের একার পক্ষে সম্ভব নয়। ব্যক্তি, পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনে কোথাও পানি জমিয়ে না রাখার জন্যও তিনি আহ্বান জানান। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি।
মন্তব্য করুন