সায়মন খান | লিড নিউজ ২৪
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই দায়িত্বে তিনি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদা পাবেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। নিয়োগের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মিঠুন চক্রবর্তী এ দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজ্যপালের অনুমোদনক্রমে মিঠুন চক্রবর্তীকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন দায়িত্বে তাঁর কাজের সুনির্দিষ্ট পরিধি কী হবে, তা পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট হতে পারে।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজ্য সরকারের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান এবং পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ককে এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের কাজে আলিপুরদুয়ারে রয়েছেন মিঠুন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর সেখান থেকেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। শিগগিরই তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
এর আগেও পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র ও পর্যটনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মিঠুনের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন ঘিরে বিভিন্ন উদ্যোগেও তাঁর মতামত নেওয়া হয়েছিল।
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রে সক্রিয় মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা ও হিন্দিসহ বিভিন্ন ভাষার অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৭৬ সালে মৃণাল সেন পরিচালিত ‘মৃগয়া’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হয়। প্রথম চলচ্চিত্রেই অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’সহ বহু জনপ্রিয় সিনেমা তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত তারকায় পরিণত করে।
অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় মিঠুন। একসময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। পরে সেই পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি।
এবার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোয় আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পেলেন ‘মহাগুরু’খ্যাত এই অভিনেতা। তাঁর দীর্ঘ চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা রাজ্যের সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র খাতের উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগানো হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।
মন্তব্য করুন