লিড নিউজ ২৪ ডেস্ক:
জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারদলীয় এমপিদের কড়া সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ায় একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ অধিবেশন। এ সময় তাকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন এই সংসদ সদস্য।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংসদে ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। হইচই ও হট্টগোলের কারণে বেশ কিছু সময়ের জন্য সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।
বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে একাদশ সংসদের বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সাবেক সদস্য ও বর্তমান স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস–বিদ্যুৎ সংকট হবে না, কিংবা সারের সংকট হবে না—এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না, মাননীয় স্পিকার।”
তার এমন বক্তব্যের পরপরই সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা। তবে হইচইয়ের মধ্যেই রুমিন ফারহানা তার বক্তব্য চালিয়ে যান। তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি হওয়া।”
সরকারি দলের সদস্যদের অব্যাহত হট্টগোলের জবাবে তিনি আরও বলেন, “মাননীয় স্পিকার, এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন আমরা আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি। মজা, মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করত। এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে। বরং আরও খারাপ আচরণ।”
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তবে মাইক ছাড়াই তিনি কথা বলতে থাকেন এবং স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগ করেন যে, তাকে অশালীন ভাষায় গালি দেওয়া হয়েছে। এ সময় এনসিপি’র সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।
পরিস্থিতি শান্ত করতে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার চেষ্টা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “একজন সদস্য বক্তব্য রাখছেন, তাঁর কথা বলার স্বাধীনতা আছে। অন্য সদস্যরা ওনার বক্তব্যে বাধা প্রদান করবেন, সেটা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।”
এ সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “বক্তব্য প্রদানে বাধা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। চিফ হুইপ হিসেবে হাউসের শৃঙ্খলা রাখা আপনার মূল দায়িত্ব। অসংসদীয় কিছু হলে সেটা চেয়ার থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে, কিন্তু বাধাগ্রস্ত করা ঠিক নয়।”
এর আগে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্তব্য করেন, “বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও রাজনীতি পেয়েছে।” তিনি রুমিন ফারহানার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “একজন সদস্য যখন কথা বলেন, তখন তাঁর নিজেরও পরিমিতিবোধ থাকা দরকার।”
অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক ও সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা’ বলে মন্তব্য করেন। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও হট্টগোলের কারণে বক্তব্য বুঝতে না পারার কথা তুলে ধরে স্পিকারের রুলিং দাবি করেন।
সংসদ অধিবেশন শেষে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন যে, সংসদের ভেতরে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে। এ সময় তিনি সংসদে চিফ হুইপের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
মন্তব্য করুন