সায়মন খান, লিড নিউজ ২৪ ডেস্ক:
আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ভারত যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এমনকি এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে কোনো সরকারি প্রতিনিধিদলও নয়াদিল্লি যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। পরবর্তীতে বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মূলত বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের (BIMSTEC) চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলাদাভাবে নয়।প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুরোপুরি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন।আগামী শনি ও রোববার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দিতে বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ভারত সফরে টানাপোড়েনের নেপথ্যে:
গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে বেশ কিছু আলোচনাও হয়।তবে এর মধ্যেই গত ৫ আগস্ট, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। এ ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করার বিষয়টি থমকে যায়।এর আগে গত কয়েকদিন পূর্বেও গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই বললেই চলে।
মন্তব্য করুন