সায়মন খান. লিড নিউজ ২৪ স্পেশাল ডেস্ক:
রহস্যে ঘেরা রাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া, আর তার চেয়েও বেশি রহস্যময় সেখানকার শাসক কিম জং উনের ব্যক্তিগত জীবন ও ক্ষমতার উত্তরাধিকার। লৌহবর্মে ঢাকা এই দেশটির ক্ষমতার অন্দরমহলে ঠিক কী ঘটছে, তা নিয়ে বহির্বিশ্বের কৌতূহলের যেন শেষ নেই। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস’ (এনআইএস) কিম পরিবার নিয়ে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কিমের মেয়ে কিম জু আয়ে-কে এরই মধ্যে অনেকে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী শাসক হিসেবে ধরে নিয়েছেন। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দাদের নতুন দাবি, জু আয়ে-এর আরও একজন ছোট ভাই বা বোন রয়েছে, যার পরিচয় বা লিঙ্গ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই নতুন তথ্য কিম পরিবারের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণকে আরও কিছুটা কৌতূহলোদ্দীপক করে তুলেছে।
ক্ষমতার কেন্দ্রে জু আয়ে: একটি সুপরিকল্পিত উত্থান?
২০২২ সালে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উৎক্ষেপণের সময় প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসেন কিম জু আয়ে। এরপর থেকেই বাবা কিম জং উনের সঙ্গে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব রাজনৈতিক, সামরিক এমনকি বেইজিং সফরেও তাকে দেখা গেছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে তাকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিয় সন্তান’ এবং ‘মহান পথপ্রদর্শক’ (কোরিয়ান ভাষায় ‘হ্যাংদো’) হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। সাধারণত এই ধরনের সম্মানসূচক শব্দ দেশটির শীর্ষ নেতা বা তাদের নির্ধারিত উত্তরসূরিদের জন্যই বরাদ্দ থাকে। এনআইএস-এর মূল্যায়ন বলছে, জু আয়ে-কে ধীরে ধীরে পরবর্তী শাসক হিসেবেই গড়ে তোলা হচ্ছে।
বড় ভাই কি তবে ক্ষমতার দৌড়ের বাইরে?দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দাদের তথ্যমতে, কিম জং উনের মোট তিন সন্তান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে তাদের জন্মের ক্রম নিয়ে বেশ ধোঁয়াশা ছিল। এনআইএস বর্তমানে যাচাই করে দেখছে জু আয়ে-এর আসলেই কোনো বড় ভাই আছে কি না। তবে সংস্থাটির মতে, “যদি তার কোনো বড় ভাই থেকেও থাকে, তবুও সে ক্ষমতার উত্তরসূরি হওয়ার মতো প্রাসঙ্গিক অবস্থানে নেই।” এর অর্থ হলো, পিতৃতান্ত্রিক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ ক্ষমতা হয়তো এবার কিম পরিবারের একজন নারী সদস্যের হাতেই উঠতে যাচ্ছে।প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণবাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে পারিবারিক উত্তরাধিকার বা রাজবংশীয় রাজনীতির চল খুব একটা অপরিচিত নয়। তবে উত্তর কোরিয়ার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে ‘পেকতু রক্তধারা’ (Paektu bloodline)-এর নামে কিম পরিবার গত কয়েক দশক ধরে চরম কঠোরতায় দেশ শাসন করে আসছে।
কিমের উত্তরসূরি হিসেবে জু আয়ে-কে এতো কম বয়সে সামনে নিয়ে আসার পেছনে একটি সুদূরপ্রসারী মনস্তাত্ত্বিক কৌশল থাকতে পারে। কিম হয়তো বিশ্বকে এবং নিজের দেশের জনগণকে এই বার্তাই দিতে চাইছেন যে, কিম রাজবংশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত এবং তাদের নিরবচ্ছিন্ন শাসন চলতেই থাকবে। অন্যদিকে, নতুন এই ‘অজানা ছোট ভাই বা বোনে’র অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে, পিয়ংইয়ংয়ের পর্দার পেছনের নাটক পুরোপুরি অনুমান করা বাইরের বিশ্বের জন্য প্রায় অসম্ভব।লিড নিউজ ২৪-এর পাঠকদের জন্য এটুকু বলা যায়, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্ব রাজনীতির দাবার বোর্ডে উত্তর কোরিয়া সবসময়ই একটি অকল্পনীয় চালের নাম। ক্ষমতার ব্যাটন শেষ পর্যন্ত জু আয়ে-এর হাতেই উঠবে, নাকি অজানা ওই ভাই-বোনদের কেউ হঠাৎ করেই দৃশ্যপটে হাজির হয়ে চমক দেখাবে—তা জানতে হয়তো বিশ্ববাসীকে আরও বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
মন্তব্য করুন