লিড নিউজ ২৪ ডেস্ক:
মাঠে ধারাবাহিক ব্যর্থতা আর মাঠের বাইরে নানা বিতর্কের কারণে ইংল্যান্ড সফরে রীতিমতো হযবরল অবস্থা পাকিস্তান ক্রিকেট দলের। টেস্ট সিরিজে ভরাডুবির মাঝেই দলের খেলোয়াড়দের ‘আচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের’ অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই তদন্তের অংশ হিসেবে দলের অন্তত দুই ক্রিকেটারের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছেন পিসিবির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের একটি বিশেষ প্রতিবেদন অবলম্বনে পাকিস্তান ক্রিকেটের এই অস্থির পরিস্থিতির চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
লর্ডস বিপর্যয় এবং ক্রিকেটারদের ফোন বাজেয়াপ্ত
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টেস্ট হেরে ইতোমধ্যে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানের বড় হারের পরপরই দলের ভেতরে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এখনো নির্দিষ্ট কোনো ক্রিকেটারের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পিসিবির যোগাযোগ বিভাগের প্রধান আমির মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, গণমাধ্যমে আসা বিভিন্ন রিপোর্টের ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা ও আচরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং নিয়ম মেনেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে।
ইমাম-উল-হকের ‘চোট’ নিয়ে তোলপাড় ও ৭ ক্রিকেটার বাদ
তদন্তের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পরিষ্কার না হলেও, সবচেয়ে বেশি তোপের মুখে পড়েছেন দলের বাঁহাতি ওপেনার ইমাম-উল-হক। লর্ডস টেস্টের প্রথম দিন সামান্য কাফ মাসলের চোটের কারণ দেখিয়ে দুই ইনিংসের একটিতেও ব্যাট করতে নামেননি তিনি। পিসিবির হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর আকিব জাভেদ জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই চোট নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ ও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “অতীতেও ক্রিকেটাররা চোটে পড়েছে, কিন্তু তারা ব্যান্ডেজ বেঁধেও দেশের জন্য খেলার চেষ্টা করেছে। সামান্য মাসল পুলের কারণে একজন ব্যাটার দুই ইনিংসেই ব্যাট করা থেকে বিরত থাকতে পারেন না। এর জন্য তাকে তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে।”
শৃঙ্খলাভঙ্গ ও পারফরম্যান্সের এমন অবনতির কারণে ইতোমধ্যে ইমাম-উল-হক, মোহাম্মদ রিজওয়ান, আঘা সালমানসহ মূল স্কোয়াড থেকে ৭ ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
কোচের রদবদল ও অন্যান্য বিতর্ক
মাঠের বাইরের এই ডামাডোলের প্রভাব সরাসরি পড়েছে কোচিং প্যানেলেও। সিরিজ চলাকালীনই প্রধান কোচের পদ থেকে সরফরাজ আহমেদকে সরিয়ে সাদা বলের দলের দায়িত্বে থাকা মাইক হেসনকে টেস্ট দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এজবাস্টনে দলের নতুন বোলিং কোচ অ্যাশলি নফকে অবশ্য পুরো বিষয়টিকে পাকিস্তান ক্রিকেটের ‘স্বাভাবিক চিত্র’ হিসেবেই দেখছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি এসবের খুব বেশি কিছু জানি না। তবে পাকিস্তান দলের সাথে কাজ করতে এসে একটা জিনিস শিখেছি যে, এখানে সবসময়ই আড়ালে কিছু না কিছু চলতে থাকে।”
শুধু ইংল্যান্ড সফরই নয়, সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান সফরেও ৯ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে জরিমানা করার খবর গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ত্রিনিদাদে প্রস্তুতি ম্যাচ চলাকালীন নির্ধারিত এলাকা (PMOA) ছেড়ে তারা ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখতে গিয়েছিলেন, যা বোর্ডের নিয়মভঙ্গের শামিল।
মন্তব্য করুন