লিড নিউজ ২৪ ডেস্ক:
ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক ‘ব্যাপক রদবদল’ (রিসেট) আনতে যাচ্ছে ব্রিটিশ লেবার সরকার। ফিলিস্তিন ইস্যুতে আগের চেয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের অবৈধ বসতিগুলোর সাথে সব ধরনের পণ্য ও নির্দিষ্ট কিছু সেবার বাণিজ্যের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।
ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের প্রতি যুক্তরাজ্যের জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেবেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্যের এমন আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা আসতে পারে। তবে ফিলিস্তিনিদের ওপর, বিশেষ করে গাজায় চলমান মানবিক অবিচার নিয়ে অতীতের যেকোনো ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ে এবার অনেক বেশি কড়া ভাষা ব্যবহার করবেন মিলিব্যান্ড।
যে কারণে যুক্তরাজ্যের এই কঠোর অবস্থান
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলিদের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপকে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে নষ্ট করতেই এই অবৈধ বসতিগুলো তৈরি করা হয়েছে বলে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্যের পাশাপাশি সেখানে অর্থায়ন ও বিজ্ঞাপনের মতো বিভিন্ন সেবাগুলোও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হতে পারে। সম্প্রতি পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের ‘ই১ (E1)’ বসতি স্থাপন প্রকল্প এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের মাত্রাতিরিক্ত সহিংসতার কারণেই ব্রিটিশ সরকার দ্রুত এই কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়াও এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
জনগণের সমর্থন ও আন্তর্জাতিক সমীকরণ
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং কাতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্রদের সাথে যুক্তরাজ্যের এই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষেরও সরকারের এই পদক্ষেপে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর প্রকাশিত একটি নতুন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের ৪৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইসরায়েলের অবৈধ বসতির ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার পক্ষে, যেখানে বিপক্ষে রয়েছেন মাত্র ১৮ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতেই যুক্তরাজ্য এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভ
গাজায় ত্রাণ প্রবেশে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বাধা দেওয়ার বিষয়ে এর আগে সরব হয়েছিলেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। তার ওই বক্তব্যের জেরে ইসরায়েল যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল। এছাড়া ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি অভিযোগ করেছিলেন যে, ব্রিটিশ লেবার সরকার ‘ইহুদি বিদ্বেষের’ শিকার।
যুক্তরাজ্যের নতুন এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘদিনের প্রথাগত কূটনৈতিক বিবৃতির গণ্ডি পেরিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে তাদের একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
(তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান)
মন্তব্য করুন