ডেস্ক রিপোর্ট:
মালয়েশিয়ার পাহাড়ি অঞ্চল লোজংয়ের গুনুং ট্রান্স গেরা (Gunung Trans Gerah) ট্রেইলে ট্রেকিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ছয় অভিযাত্রীর সন্ধান পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন এবং বর্তমানে সবাই নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
পেরাকের গেরিক জেলার পুলিশ সুপার আবদুল সামাদ ওসমান জানান, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই অভিযাত্রী দলের এক গাইডের সঙ্গে পরিবারের এক সদস্যের যোগাযোগ হয়। এরপরই তাদের নিরাপদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
তিনি বলেন, “আমরা আপাতত এটুকু নিশ্চিত করতে পেরেছি যে, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে এবং তারা নিরাপদে আছেন। তবে উদ্ধারকারী দল এখনো তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। তারা পেরাক এলাকায় অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা তাদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর আজ বা আগামীকালের মধ্যে তাদের নিরাপদে বের করে আনবে।”
যারা নিখোঁজ হয়েছিলেন
গত ২৯ আগস্ট ট্রেকিংয়ে বের হওয়া ওই দলে ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী ওয়ান আহমাদ আসলাম ওয়ান জাইরুদিন, তার স্ত্রী সিতি জুলাইহা নোরিজান (৩৯), তাদের দুই সন্তান দিয়া রাইশা (১৩) ও আহমাদ রায়েফ (৯)। তাদের সঙ্গে ছিলেন শাফি সিদ্দিক (৪৯) ও হাজমান মামাত (৪৩) নামে দুই মাউন্টেইন গাইড।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু তারা ফিরে না আসায় গতকাল (রোববার) পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
যেভাবে মিলল সন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা
পেরাক ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ডিপার্টমেন্টের (জেবিপিএম) পরিচালক দাতুক সায়ানি সাইদোন জানান, আকাশপথে তল্লাশি চালানোর সময় হেলিকপ্টার থেকে ধোঁয়ার সংকেত (Smoke signals) দেখতে পায় উদ্ধারকারী দল। এর মাধ্যমেই পস কেমার বনাঞ্চলে নিখোঁজ অভিযাত্রীদের অবস্থান শনাক্ত করা সহজ হয়।
তিনি আরও জানান, বিকেল সাড়ে ৪টায় পস কেমারে পৌঁছানো জেবিপিএম-এর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে করে ১১ জন উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৪ জন মালয়েশিয়ান মাউন্টেইন গাইড পায়ে হাঁটা পথে এই উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ২৫ সদস্যের একটি চৌকস দল (এসএআর) কাজ করছে।
জানা গেছে, বনবিভাগের কাছে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে একটি বার্তা আসে যে অভিযাত্রীরা নিরাপদে গুনুং বনগোক এলাকায় পৌঁছেছেন।
উদ্ধারকারী দল আজ রাতেই কেম কুলিম এলাকায় তাদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করছে। অভিযাত্রীদের শারীরিক অবস্থা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে তাদের আজ রাতেই লোকালয়ে ফিরিয়ে আনা হবে, নাকি আজকের রাতটা তারা ক্যাম্পেই কাটাবেন। আবহাওয়া ও পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে হেলিকপ্টার বা স্থলপথ—যেকোনো মাধ্যমেই তাদের দ্রুত জনালয়ে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন