লিড নিউজ ২৪ ডেস্ক:
মাউন্ট আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইন্দোনেশিয়া। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাইয়ের কুণ্ডলী আকাশে ২০ থেকে ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। ছাইয়ের আস্তরণে ঢেকে গেছে রাজধানী জাকার্তাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ আকাশ। নিরাপত্তাজনিত কারণে জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ মোট আটটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় পৌনে দুই লাখ যাত্রী।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত শুক্রবার গভীর রাতে আনাক ক্রাকাতোয়া থেকে এই অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রোববার সকালে সবার আগে জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর একে একে আরও সাতটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। বিবিসি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সিঙ্গাপুরগামী এবং সিঙ্গাপুর থেকে আসা ফ্লাইটগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দোহা, সিডনি এবং কুয়ালালামপুরসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
হঠাৎ ফ্লাইট বাতিলে টার্মিনালে আটকা পড়েছেন লাখো মানুষ। অনেকেই উপায় না পেয়ে বিমানবন্দরের মেঝেতেই রাত কাটাচ্ছেন। সব মিলিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী।
পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা তুলে ধরে ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জাকার্তার কাছাকাছি লামপুং ও পশ্চিম জাভা প্রদেশের বিমানবন্দরগুলোসহ মোট আটটি বিমানবন্দর সোমবার সকাল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনশীল এই আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি ঠিক কখন স্বাভাবিক হবে, তা আমরা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।’
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূকম্পনবিষয়ক সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত ছাই জাভা দ্বীপের দিকের আকাশে ২০ হাজার ফুট এবং সুমাত্রা দ্বীপের দিকের আকাশে প্রায় ৫০ হাজার ফুট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা নাগরিকদের বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহারের কড়া নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় জাকার্তা ও ল্যাম্পুং অঞ্চলের স্কুলগুলোতে সশরীরে ক্লাস বন্ধ রেখে দূরশিক্ষণ বা অনলাইন কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পুরোনো আতঙ্ক নতুন করে:প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ বা অগ্নিবলয়ে অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় নিয়মিতই ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। আনাক ক্রাকাতোয়া, যার অর্থ ‘ক্রাকাতোয়ার সন্তান’, মূলত এক শতাব্দী আগে ধ্বংস হয়ে যাওয়া পুরোনো ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির স্থলে নতুন করে জেগে উঠেছে। ১৮৮৩ সালে পুরোনো ক্রাকাতোয়ার ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত ও তার প্রভাবে সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। নতুন করে আনাক ক্রাকাতোয়ার এই অগ্ন্যুৎপাত তাই স্থানীয়দের মনে পুরোনো সেই আতঙ্ককেই নতুন করে উসকে দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন